মুখের অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেক নারী। কেউ থ্রেডিং বা ওয়্যাক্সিং করান, আবার কেউ ফেস রেজর ব্যবহার করতে চান। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—মুখের লোম শেভ করলে কি তা আরও ঘন, মোটা বা কালো হয়ে ফিরে আসে? এই ধারণা বহুদিনের হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এটি আসলে একটি প্রচলিত মিথ। 

মিথ: শেভ করলে লোম আরও মোটা ও ঘন হয়
এটি সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলির একটি। বাস্তবে শেভ করার সময় লোমের কেবল উপরের অংশ কাটা হয়, ত্বকের নিচে থাকা হেয়ার ফলিকলে এর কোনও প্রভাব পড়ে না। ফলে লোমের ঘনত্ব, রং বা বৃদ্ধির গতি বদলায় না। 

তাহলে লোম মোটা মনে হয় কেন?
শেভ করার পর নতুন লোমের ডগা সূচালো থাকে না, বরং সমানভাবে কাটা থাকে। তাই যখন তা আবার গজাতে শুরু করে, তখন স্পর্শে একটু খসখসে লাগে এবং দেখতে তুলনামূলক মোটা বা গাঢ় মনে হতে পারে। কিন্তু এটি শুধুই দৃশ্যগত পরিবর্তন, লোমের প্রকৃত গঠন বদলায় না। 

 শেভ করার সুবিধা কী?
সঠিকভাবে ফেস রেজর ব্যবহার করলে ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ ও সূক্ষ্ম 'পিচ ফাজ' লোম দূর হয়। এতে ত্বক আরও মসৃণ দেখায় এবং মেকআপ সহজে বসে। অনেকের ক্ষেত্রে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টও ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। 

কিছু সতর্কতা জরুরি
অপরিষ্কার রেজর ব্যবহার করলে সংক্রমণ, রেজর বার্ন, কেটে যাওয়া বা ত্বকে জ্বালাভাবের ঝুঁকি থাকে। যাঁদের ব্রণ, একজিমা, সক্রিয় ত্বকের সংক্রমণ বা অতিসংবেদনশীল ত্বক রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই শেভ করা উচিত। 

শেভ করার আগে কী করবেন?
সবসময় পরিষ্কার ও ধারালো ফেস রেজর ব্যবহার করুন।
পরিষ্কার ত্বকে হালকা হাতে শেভ করুন।
শেভের পর অ্যালকোহলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
রেজর অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার করবেন না। 

সবশেষে মনে রাখবেন, মুখের লোম সরানোর কোনও একটিই সবার জন্য আদর্শ পদ্ধতি নয়। শেভিং, থ্রেডিং, ওয়্যাক্সিং বা লেজার—যে পদ্ধতিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যা আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত, সেটিই বেছে নেওয়া উচিত। তবে শুধুমাত্র এই ভেবে শেভ করা এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই যে এতে লোম আরও মোটা বা বেশি হয়ে যাবে। বৈজ্ঞানিক তথ্য সেই ধারণাকে সমর্থন করে না।