অনেক সময়ই ফ্রিজ খুললে দুর্গন্ধ নাকে আসে। ফ্রিজে নানা ধরনের খাবার, শাকসবজি থাকে। তাই নিয়মিত এটি পরিষ্কার না হলে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই ফ্রিজের মতো জিনিস ‘ডিপ ক্লিন’ করা দরকার।

আসলে ফ্রিজ এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা দিনের পর দিন খাবার সংরক্ষণ করি। কিন্তু পরিষ্কারে অবহেলা হলে সেখানে সহজেই ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। আপনার ফ্রিজ থেকে যদি দুর্গন্ধ বেরয়, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ইতিমধ্যেই বাসা বেঁধেছে।

কেন ফ্রিজে দুর্গন্ধ হয়

ইউএসএ টুডে-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্রিজের ভিতরে যখন ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বেড়ে ওঠে, তখনই মূলত দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সাধারণত যেখানে আর্দ্রতা থাকে, সেখানেই এরা বেশি জন্মায়। ফ্রিজের ভিতরে পড়ে থাকা খাবার বা বাইরে থেকে ঢোকা আর্দ্রতা থেকেই এই সমস্যা তৈরি হয়। একবার আর্দ্রতা জমে গেলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সংখ্যায় বেড়ে গেলে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

কীভাবে ফ্রিজ পরিষ্কার রাখবেন

সঠিক তাপমাত্রা সেট করুন

ফ্রিজে দুর্গন্ধ আটকানোর প্রথম ধাপ হল সঠিক কুলিং সেটিং। অনেকেই বিদ্যুৎ বাঁচানোর জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেন, ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। ফ্রিজের তাপমাত্রা সবসময় ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ১.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখা আদর্শ। এতে খাবার টাটকা থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে না।

দরজাটি ভাল করে দেখুন

আমরা সাধারণত ফ্রিজের ভিতরের তাক পরিষ্কার করি, কিন্তু দরজার পকেটগুলোর দিকে নজর দিই না। সেখানে দুধ, ডিম, সস রাখা হয়। অনেক সময় দুধের ফোঁটা বা ডিমের তরল পড়ে গিয়ে শুকিয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার দরজার অংশ ভালো করে পরিষ্কার করা জরুরি।

ভিনিগার ও ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন

ফ্রিজ খালি করার পরেও যদি দুর্গন্ধ না যায়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যাকটেরিয়া গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ক্ষেত্রে সব খাবার বার করে নিন। এবার জলে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ফ্রিজের প্রতিটি কোণ, তাক ও রাবার গ্যাসকেট মুছুন। ভিনিগার একদিকে যেমন দাগ তুলতে সাহায্য করে, তেমনই প্রাকৃতিকভাবে জীবাণুনাশক হিসাবেও কাজ করে।

দুর্গন্ধ শোষণের ঘরোয়া উপায়

পরিষ্কারের পর ফ্রিজে সতেজতা বজায় রাখতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিজের এক কোণে খোলা পাত্রে বা ছোট পুঁটলিতে বেকিং সোডা রেখে দিন। এটি বাজে গন্ধ শুষে নেয়। এছাড়া বাজারে পাওয়া সিলিকা জেল ম্যাটও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে ও ফাঙ্গাস হতে দেয় না।

মাসে একবার ডিপ ক্লিনিং করুন

ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভাল রাখতে এবং নিজের স্বাস্থ্যের জন্য মাসে অন্তত একদিন ডিপ ক্লিনিংয়ের জন্য রাখুন। সেদিন ফ্রিজ পুরো খালি করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে প্রতিটি অংশ ভালভাবে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার শুরু করার আগে ফ্রিজের সঙ্গে দেওয়া ইউজার বুকলেট একবার পড়ে নেওয়াও জরুরি, কারণ বিভিন্ন মডেলের ফ্রিজে কোন অংশে জল ব্যবহার করা যাবে আর কোথায় যাবে না, তা সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।