খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ফোলা বা অস্বস্তি হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই জীবনযাপনের পরিবর্তনেই বড় পার্থক্য দেখা যায়। সাধারণত খাবার ঠিকমতো হজম না হলে বা অজান্তেই কিছু অভ্যাসে গ্যাস তৈরি হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। কী খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন, এই বিষয়ে একটু সচেতন হলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল থাকে এবং খাবারের পর শরীর অনেক হালকা অনুভব হয়।

 ধীরে খান এবং ভাল করে চিবিয়ে নিন

খাবারের পর গ্যাস হওয়ার অন্যতম কারণ হল খুব দ্রুত খাওয়া। তাড়াহুড়ো করে খেলে বড় বড় খাবারের টুকরো পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়। এরপর সেগুলোকে ছোট কণায় ভাঙতে পাকস্থলীর বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা গ্যাস্ট্রিক এম্পটিং ধীর করে দেয় এবং গ্যাস ও ভারীভাবের সৃষ্টি করে।

ভালভাবে চিবোলে খাবার যান্ত্রিকভাবে ভাঙে এবং লালার সঙ্গে মিশে যায়, যেখানে থাকা এনজাইম হজম প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। পাশাপাশি ধীরে খেলে অতিরিক্ত বাতাস গেলার সম্ভাবনাও কমে।

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কমান, কারণ এগুলো হজম ধীর করে

ভাজাভুজি, অতিরিক্ত তেল, মাখন, চিজ বা ক্রিমজাত খাবার হজম করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিনের তুলনায় ফ্যাট হজমে বেশি সময় লাগে, ফলে ভারী ও তৈলাক্ত খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। এর ফলেই পেটে টান লাগা, ফোলা ভাব বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।
ভাপানো, গ্রিল করা বা হালকা ভাজা খাবার হজমের পক্ষে সহজ।

অল্প করে বারবার খান

একবারে খুব বেশি খাবার খেলে হজমতন্ত্রের উপর হঠাৎ চাপ পড়ে। দিনে দু’বার ভারী খাবার খাওয়ার বদলে খাবারকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া ভাল। এতে অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যায়, হজম প্রক্রিয়া মসৃণ থাকে এবং গ্যাস জমার সম্ভাবনাও কমে।

কম পরিমাণ খাবার পাকস্থলী সহজে সামলাতে পারেষ এবং এতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও পেট ফোলার মতো ঝুঁকিও কমে।

যেসব খাবার সাধারণত গ্যাস তৈরি করে, সেগুলোর পরিমাণে সতর্ক থাকুন

কিছু খাবার তাদের ফাইবারের মাত্রা ও অন্ত্রে ফারমেন্ট হওয়ার স্বভাবের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বেশি গ্যাস তৈরি করে। ডাল, বাঁধাকপি, ব্রোকলি ও ফুলকপি স্বাস্থ্যকর হলেও অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাসের কারণ হয়। কার্বনেটেড পানীয় শরীরে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকিয়ে দেয়।

এই ধরনের খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি হলে পরিমাণ কমিয়ে দিন বা আদা, জিরার মতো হজম সহায়ক উপাদানের সঙ্গে খান।

খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক রাখুন

ভাল ব্যাকটেরিয়া হজম সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টক দই ও ঘোলের মতো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া মসৃণ করে এবং গ্যাস ও পেট ফোলা কমায়। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে প্রোবায়োটিক খেলে দীর্ঘমেয়াদে হজমের ভাল উপকার পাওয়া যায়।

খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়বেন না

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে হজমের গতি কমে যায়। গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাতে খাবারের পর ঘুমোতে যাওয়ার আগে অন্তত দু’ঘণ্টার বিরতি রাখা উচিত।

খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজমে উদ্দীপনা তৈরি হয়, পাকস্থলী দ্রুত খালি হতে সাহায্য করে এবং গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে।