৬৫ বছরের বেশি বয়সে অনেক মহিলারই হিপ ফ্র্যাকচার বা কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার সমস্যা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চোটের পর প্রথম এক বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ২০–৩০% পর্যন্ত হতে পারে।বিষয়টি আতঙ্কের মনে হলেও, আগে থেকে সচেতন থাকলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
আসলে ৩০ বছর বয়সের পর থেকে মহিলাদের শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়। প্রতি বছর একটু একটু করে পেশি কমতে থাকে। পেশির শক্তিও কমে যায়, আর কাজ করার ক্ষমতা আরও দ্রুত কমে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে ভেতরে শরীর দুর্বল হতে থাকে।
মেনোপজের সময় এই পরিবর্তন আরও দ্রুত হয়। তখন শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নামের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন অনেকটাই কমে যায়। এই হরমোনগুলো এতদিন হাড় ও পেশিকে শক্ত রাখত। হঠাৎ এগুলো কমে গেলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়, সহজে ভাঙতে পারে এবং পেশিও দ্রুত ক্ষয় হয়। তাই এই সময় থেকে মহিলাদের অস্টিওপোরোসিস (হাড় পাতলা হয়ে যাওয়া) ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
তাহলে সমস্যা এড়াতে কী করা উচিত? প্রথমেই নিজের শরীরের অবস্থা বোঝা দরকার। খুব সহজ একটা উপায় হল কোমরের মাপ নেওয়া। নাভির কাছে যদি মাপ ৩৪ ইঞ্চির বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে ফ্যাট জমছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ওজন নিয়ে ব্যায়াম করা। অনেকেই ভাবেন, মহিলাদের ভারী কিছু তোলা উচিত নয়, এটা ভুল ধারণা। আসলে সঠিক নিয়ম মেনে ওজন তোলার ব্যায়াম করলে পেশি শক্ত হয়, হাড় মজবুত থাকে এবং পড়ে গিয়ে চোট লাগার ঝুঁকি কমে।
পাশাপাশি খাবারে প্রোটিন বাড়ানো খুব জরুরি। ডাল, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ-এই খাবারগুলো পেশি গঠনে সাহায্য করে। পেশি ভাল থাকলে শরীরেও এনার্জি থাকে।
এক্ষেত্রে শুধু হাঁটা বা যোগব্যায়াম যথেষ্ট নয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে শক্ত রাখতে হলে একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং ব্যায়াম দরকার, যেমন রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং। জিমে যাওয়া মানেই শুধু শরীর সুন্দর করা নয়। এটি আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থ, স্বনির্ভর এবং সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
এককথায় ছোট ছোট অভ্যাস যেমন সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম আর নিজের শরীরের খেয়াল রাখা-এগুলোই ভবিষ্যতে বড় বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।















