মাথাব্যথা খুব সাধারণ একটা সমস্যা, এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু যদি বারবার মাথা ধরে, তাহলে সেটিকে একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ আমাদের শরীর অনেক সময় ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। ঘন ঘন মাথাব্যথাও তেমনই একটি সংকেত।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপঃ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা টেনশন বেশি থাকলে মাথার চারপাশে চাপের মতো ব্যথা হয়। অনেকেই এটাকে ‘টেনশন হেডেক’ বলে। নিয়মিত এমন হলে বুঝতে হবে শরীর বিশ্রাম চাইছে।

জল কম খাওয়াঃ আমরা অনেক সময় পর্যাপ্ত জল খাই না। এতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে এবং মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত জল খাওয়া খুব জরুরি।
ঠিকমতো ঘুম না হওয়াঃ কম ঘুম, দেরিতে ঘুমানো বা ঘুমের অনিয়ম-সবই মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে গেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার।

অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারঃ মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকাও মাথাব্যথার কারণ। আজকাল আমরা অনেকেই দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করি। এতে চোখে চাপ পড়ে, আর সেই চাপ থেকেই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়াঃ অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে বা সময়মতো খাবার না খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায়। এর ফলেও মাথা ধরতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা আরও বড় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন মাইগ্রেন, সাইনাস, হরমোনের পরিবর্তন বা উচ্চ রক্তচাপ। তাই যদি মাথাব্যথা খুব বেশি হয় এবং সঙ্গে বমি, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখতে পান-এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘন ঘন মাথাব্যথা মানেই শুধু ক্লান্তি নয়, শরীরের সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই এটিকে অবহেলা না করে কারণটা বোঝার চেষ্টা করা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই শ্রেয়।