সুস্থতার জন্য ফল খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, একজনের জন্য যে ফলটি অমৃত, অন্যজনের কাছে সেটিই বিষের মতো কাজ করতে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা আইবিএস (পেটের রোগ)-এ ভুগে থাকেন, তবে ফল খাওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তাহলে কোন রোগে কোন ফল বুঝেশুনে খাবেন,জেনে নিন- 


ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফলের সতর্কতা: অনেকের মনেই ভুল ধারণা থাকে যে, ফলের মিষ্টি যেহেতু প্রাকৃতিক, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষতি করে না। এটি একদম ভুল ধারণা। ফলের মধ্যেও এক ধরণের শর্করা বা চিনি থাকে, যাকে বলা হয় ফ্রুক্টোজ। কিছু কিছু ফল খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। 

পাকা আম, কাঁঠাল, পাকা কলা, লিচু, আঁত ফল, খেজুর এবং কিসমিসের মতো ফলগুলোতে শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই ফলগুলোর 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' অনেক বেশি। অর্থাৎ, এগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে সুগারের ঝড় বয়ে যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। তাই ডায়াবেটিসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিনে অল্প পরিমাণে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম বা জামরুল খেতে পারেন। তবে পরিমাণের দিকে নজর রাখতে হবে।


কিডনি রোগীদের জন্য ফল যেন 'নীরব ঘাতক':  কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার নিয়ম সাধারণ মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কিডনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শরীর থেকে বাড়তি খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের হতে পারে না। এক্ষেত্রে কলা, ডাবের জল, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, আমড়া, এবং শুকনো ফল  সাবধানে খেতে হবেম সবচেয়ে মারাত্মক ফল হল কামরাঙা। এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। সুস্থ কিডনি পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, কিন্তু অসুস্থ কিডনি তা পারে না। রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। আর কামরাঙায় এক ধরণের বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) থাকে, যা কিডনি রোগীদের সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।কিডনি রোগীদের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তাররা ফল খাওয়ার অনুমতি দেন। 


আইবিএস বা পেটের রোগীদের সমস্যা: আইবিএস হল এমন একটি সমস্যা, যেখানে মানুষের পরিপাকতন্ত্র বা পেট অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। কিছু নির্দিষ্ট ফল খেলে এদের পেটে তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড় দিয়ে ব্যথা বা বারবার পাতলা মলত্যাগ শুরু হয়। এক্ষেত্রে আপেল, নাশপাতি, তরমুজ, চেরি, পিচ এবং যে কোনও অতিরিক্ত মিষ্টি ফল বা ফলের রস সমস্যা বাড়ায়।এই ফলগুলোতে এমন কিছু শর্করা ও সুগার অ্যালকোহলথাকে, যা আইবিএস রোগীদের অন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় হাই-ফডম্যাপখাবার। এগুলো পেটে গিয়ে গাঁজন তৈরি করে, যার ফলে প্রচুর গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি তৈরি হয়। আইবিএস রোগীরা পাকা পেঁপে, পাকা কলা, ডালিম কিংবা লেবুর রস খেতে পারেন। এগুলোকে 'লো-ফডম্যাপ' খাবার বলা হয়, যা পেটে সহজে গ্যাস তৈরি করে না


ফল প্রকৃতির আশীর্বাদ, তবে তা সকলের জন্য এক নয়। আপনার যদি এই তিনটির কোনও একটি রোগও থেকে থাকে, তবে কোনও ফলই 'উপকারী' ভেবে ইচ্ছেমতো খাবেন না। সবসময় চিকিৎসক বা একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আপনার শরীরের জন্য ঠিক যতটুকু দরকার, ততটুকুই ফল খান।