বাড়িতে গেটটুগেদার কিংবা অফিসে পার্টি। মাঝেসাঝের বিয়েবাড়ি। ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় ডেট। কিংবা কারণ ছাড়া স্রেফ ইচ্ছে হল বলেই সেজে ওঠা। আর পুজোর দিনগুলো তো আছেই। মেয়েদের সাজের উপলক্ষ কি কম পড়িয়াছে? মোটেই না!
পোশাক-আশাক তো বটেই, আজকাল মেকআপের খুঁটিনাটিরও খবর রাখেন প্রায় সকলেই। কেমন মেকআপ কখন করতে হয় কিংবা কোন রূপটানে কতটা মোহময়ী লাগে— তাও নখদর্পণে। সে হয়তো কেউ একটু চড়া মেকআপ পছন্দ করেন, কেউ আবার একেবারে হাল্কা সাজেই নিজেকে নিজের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে চান। তবু চলতি ট্রেন্ডে নিজেকে সাজিয়ে তুলে ভিড়ের মাঝে গিয়ে দাঁড়ানোর স্বাদ কিন্তু আজও আলাদা!
রূপটানের দুনিয়ায় তবে কোন কোন সাজ এখন ট্রেন্ডিং?
গ্লাস স্কিন – জনপ্রিয় কোরিয়ান মেকআপ-ট্রিক এখনও দাপটে রাজত্ব করছে এ দেশে। কাঁচের মতো ঝকঝকে গ্লাস স্কিনের প্রেমে মজে থাকলে বেছে নিতে হবে আপনার ত্বকের রঙের চেয়ে এক টোন হাল্কা ফাউন্ডেশন বা স্কিন টিন্ট। সঙ্গে একটু ডিউই ফিনিশ সেটিং স্প্রে এবং মুখের হাড়ের উঁচু অংশগুলোয় (চিকবোন, কিউপিড’স বো, ভিতর দিককার কোণ) অল্প একটু লিক্যুইড হাইলাইটারের ছোঁয়া। ব্যস! তবে মনে রাখবেন, এই মেকআপ কিন্তু বাইরের রোদে ঘোরাঘুরির জন্য নয়, বরং চারদেওয়ালের ভিতরের উপযোগী।
ব্লাশ ড্রেপিং – আবার সে এসেছে ফিরিয়া! আপনার সাধের ব্লাশ আবার নতুন করে ট্রেন্ডে ইন! তবে এ ক্ষেত্রে আগের মতো গাঢ় টানের বদলে গাল, কপাল বা কখনও সখনও নাকের উপর একটু চওড়া, মোলায়েম টানে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লুক তৈরি করাই এখন ইন। এদেশের মেয়েদের ত্বকের সঙ্গে সবচেয়ে মানায় ওয়ার্ম রোজ, ওয়ার্ম পিচ, টেরাকোটা বা ব্রিক টোন। পিঙ্ক বা ল্যাভেন্ডারের মতো রং এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
লিপ কম্বো – ঠোঁটের মেকআপে টু টোন অ্যান্ড লাইন্ড লুকের যুগলবন্দির বাজার গরম। যে লিপস্টিক বেছে নিচ্ছেন, তার চেয়ে সামান্য আলাদা রঙে লিপলাইনার টানুন আপনার ঠোঁটের রেখার একটু বাইরে দিয়ে। এতেই টু টোন তৈরি হবে। ধরা যাক, আপনার লিপস্টিক হাল্কা বেরি শেডের। সে ক্ষেত্রে লাইনার হতে হবে ডিপ প্লাম। কিংবা কফি রঙা লিপস্টিকে বেছে নিতে পারেন ন্যুড শেডের লাইনার।
গ্রাফিক লাইনার – চোখের ইশারায় আরও কাবু করতে ফেলতে চান কাউকে? এ ট্রেন্ড তবে আপনার জন্যই। আগেকার চেনা টানের বদলে এবার লাইনারে আনুন জ্যামিতিক শেপ। চোখের ভাঁজের উপরটায় একটু ফ্লোটিং লাইন, ভিতরের কোণের দিকটায় একটু ডিটেল, ডবল উইং কিংবা চোখের রেখা বরাবর টান দিয়ে কোণগুলো বাদ রাখা ডিকনস্ট্রাক্টেড লাইন— যেমন খুশি বেছে নিন। ফর্সা বা মাঝারি রঙের ত্বকে কালো, ফরেস্ট গ্রিন, গাঢ় নীল ভাল দেখায়। শ্যামবর্ণারা বেছে নিতে পারেন ইলেকট্রিক ব্লু, গোল্ড বা কপার শেড।
মোনোক্রোম্যাটিক লুক – এ সাজে একই রঙের নানা শেড বেছে নিন মুখের সব রকম অংশে। সবেতেই এক রং, এক শেড রাখতে চাইলে গাল, ঠোঁট এবং চোখের পাতা সবেতেই থাক টেরাকোটা কিংবা ডাস্টি রোজ। একটু আলাদা রকম শেডের পথে হাঁটতে চাইলে গাল এবং চোখের পাতায় বার্ন্ট অরেঞ্জের সঙ্গে কোরাল রঙা লিপস্টিক ভাল দেখাবে। তবে এই ধরনের লুকে আপনার ত্বকের মানানসই শেড বেছে নিন বাড়তি সতর্ক হয়ে। না হলে কিন্তু সব মাটি!
ব্রোঞ্জড গ্লো – ত্বকের উপর রোদের ছোঁয়ায় কেমন উজ্জ্বল দেখায়, তাই না? ব্রোঞ্জার, ওয়ার্ম হাইলাইটার এবং উজ্জ্বল রঙা ব্লাশের মিলমিশে ঠিক সেটাই এনে দেয় এই মেকআপ ট্রেন্ড। সূর্যের আলো মুখে পড়লে ঠিক যে জায়গাগুলোয় পড়ে, অর্থাৎ কপাল, চিকবোন কিংবা নাকের ব্রিজ অংশ— সেখানেই রঙের ছোঁয়া এনে দেয় রোদ-ঝলমলে ভাব। ব্রোঞ্জারের সঙ্গে ওয়ার্ম গোল্ডেন বা কপার আন্ডারটোন বেছে নিন এই লুকের জন্য।
ব্রাশড আপ ডিফাইন্ড ব্রাও – ফিরে এসেছে সুনির্দিষ্ট টানে আঁকা ভ্রূ। তবে আগের মতো নিখুঁত, তীক্ষ্ণ টান নয়। বরং একটু ভরাট, স্বাভাবিক ঘনত্বে এবং ব্রাশড আপ লুকে। ভ্রূ আঁকার সরু পেন্সিলের টান এবং ক্লিয়ার সেটিং জেল দিয়ে একটু উপর দিকে আঁচড়ে নেওয়া। তাতেই কামাল!
ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে সেজে উঠুন আশ মিটিয়ে। বেছে নিন মনের মতো রং। কে কী বলল, তাতে থোড়াই কেয়ার! আয়নায় নিজের নিজেকে ভাল লাগাটাই কিন্তু শেষ কথা!
















