স্ট্রোকের পর অনেক মানুষই শুধু শরীরের নয়, কথা বলার ক্ষেত্রেও বড় সমস্যার মুখে পড়েন। অনেকের মুখ দিয়ে শব্দ বের হতে চায় না, কেউ আবার মনের কথা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। এই সমস্যাকে চিকিৎসার ভাষায় অ্যাফেসিয়া বলা হয়। মস্তিষ্কের যে অংশ কথা বলা ও ভাষা বোঝার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, স্ট্রোকের কারণে সেই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এবার স্ট্রোকের পর কথা বলার ক্ষমতা ফিরে পেতে একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সেটি হল মিউজিক থেরাপি, বিশেষ করে পরিচিত হিন্দি গানের মাধ্যমে ভাষার অনুশীলন।
এই থেরাপিতে রোগীদের পরিচিত গান শোনানো হয়। এরপর গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শব্দ উচ্চারণ, গানের লাইন বলা এবং ছন্দের মাধ্যমে কথা বলার অভ্যাস করানো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, কোনও রোগী সাধারণভাবে একটি শব্দ বলতে পারছেন না, কিন্তু সেই একই শব্দ গানের সুরের সঙ্গে সহজে বলতে পারছেন।
আসলে গান শুনলে মস্তিষ্কের একাধিক অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়। সাধারণ কথাবার্তার সময় মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ কাজ করে। কিন্তু গান, সুর ও ছন্দের ক্ষেত্রে স্মৃতি, আবেগ এবং ভাষার সঙ্গে যুক্ত আরও অনেক অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্ক নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, যার নাম নিউরোপ্লাস্টিসিটি। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিবর্তে অন্য অংশকে কাজে লাগিয়ে নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই ক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব।
হিন্দি গান ব্যবহার করার একটি বিশেষ কারণও রয়েছে। বহু ভারতীয় মানুষের কাছে ছোটবেলা থেকে শোনা হিন্দি গান পরিচিত এবং আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। পরিচিত গান শুনলে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এর ফলে রোগীর মধ্যে কথা বলার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু গান শুনলেই স্ট্রোকের সমস্যা পুরোপুরি সেরে যাবে, এমন নয়। মিউজিক থেরাপি হল একটি সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি। এর সঙ্গে নিয়মিত স্পিচ থেরাপি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়।
স্ট্রোকের পরে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। নতুন এই হিন্দি মিউজিক থেরাপি শুধু কথা বলার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতেই নয়, রোগীদের মানসিক জোর ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অনেক পরিবারের কাছে এটি নতুন আশার খবর হয়ে উঠেছে
















