বর্তমানে কম বয়সিদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। অনেক সময় কোনও বড় লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়। তাই চিকিৎসকেরা এখন শুধু কোলেস্টেরল পরীক্ষা নয়, আরও কিছু বিশেষ পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন।
হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কবার্তা পেতে অন্যতম পরীক্ষা হল ApoB (অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি) টেস্ট। এই রক্তপরীক্ষার খরচ অনেক জায়গায় মাত্র ৩০০ টাকার কাছাকাছি। অথচ এটি হার্টের ঝুঁকি আগেভাগে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আমাদের রক্তে বিভিন্ন ধরনের চর্বি বা ফ্যাট থাকে। এর মধ্যে কিছু ভাল, আবার কিছু খারাপ। খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল ধীরে ধীরে রক্তনালির ভিতরে জমে প্লাক তৈরি করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং একসময় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সাধারণ লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা গেলেও, ApoB টেস্ট জানায় শরীরে ঠিক কতগুলি ক্ষতিকর লিপোপ্রোটিন কণা রয়েছে। এই কণাগুলিই রক্তনালিতে জমে সমস্যা তৈরি করে। তাই অনেক সময় কোলেস্টেরলের রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও ApoB-এর মাত্রা বেশি থাকতে পারে। সেই কারণেই এই পরীক্ষাকে অনেক বিশেষজ্ঞ বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।
বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, ওজন বেশি, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি, ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে অথবা পরিবারে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস আছে, তাঁদের জন্য এই পরীক্ষা খুবই উপকারী হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে এই পরীক্ষা করালে হৃদরোগের ঝুঁকি আগে থেকেই বোঝা সম্ভব হয়।
ApoB টেস্ট একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষা। এর জন্য হাতে শিরা থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়। বেশিরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই এই পরীক্ষা করা যায় এবং রিপোর্টও দ্রুত পাওয়া যায়। সাধারণত এর খরচ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়, যদিও জায়গাভেদে খরচ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু ApoB পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই হার্টের অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। চিকিৎসক রোগীর বয়স, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের রিপোর্ট, জীবনযাত্রা এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিচার করেই ঝুঁকি নির্ধারণ করেন।
আপনার যদি হার্টের অসুখের ঝুঁকি থাকে বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ApoB পরীক্ষা করানোর বিষয়ে ভাবতে পারেন। সময়মতো ঝুঁকি ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
















