খাতায় কলমে বসন্তকাল হলেও দিনের বেলায় গরমের আঁচ বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে। রোদের প্রখর তাপের সঙ্গে ধুলোবালি মিশিয়ে চুলের বেহাল দশা। মাথার ত্বকে ঘাম জমে আঠা আঠা ভাব, সঙ্গে বাড়ছে খুশকিও! এই সমস্যা কি চেনা চেনা লাগছে? তাহলে আপনি একা নন, গরম পড়তেই চুল নিয়ে নাজেহাল অনেকেই। 

আসলে আমাদের দেশে গরমকালে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে শরীর বেশি ঘামে। মাথার ত্বকও তার ব্যতিক্রম নয়। ঘামে লবণ এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা চুলের সঙ্গে মিশে চুলকে আঠালো করে তোলে। মাথার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই তেল অর্থাৎ সেবাম নিঃসরণ করে, যা চুলকে ময়েশ্চারাইজ রাখে। কিন্তু গরমকালে তাপের কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থিগুলো আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে পারে। এই অতিরিক্ত তেল চুলের সঙ্গে মিশে আঠালো ভাব সৃষ্টি করে। মোটকথা, গরমকালে বেশি ঘাম হওয়া, মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, পরিবেশের ধুলাবালি এবং চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে চুলের সমস্যা বাড়ে। 

গরমকালে কোন কৌশলে চুলের যত্ন নেবেন, জেনে নিন- 

নিয়মিত চুল ধোয়া: গরমকালে ঘাম এবং তেল বেশি হওয়ার কারণে নিয়মিত চুল ধোয়া জরুরি। প্রতিদিন অথবা একদিন অন্তর শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।

হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার: অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করে হালকা এবং প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ঘরে বানানো প্রাকৃতিক শ্যাম্পু মাঝে মাঝে ব্যবহার করতে পারেন যা চুলের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার: মাথার ত্বকে নয়, কন্ডিশনার চুলের আগায় লাগান। অতিরিক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল আরও বেশি আঠালো লাগতে পারে।

লেবুর রস: লেবুর রস প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট যা মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। এক মগ জলে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধোয়ার পর ব্যবহার করুন এবং কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
 
আপেল সিডার ভিনেগার: আপেল সিডার ভিনেগার মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স করতে এবং তেল নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। এক মগ জলে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে চুল ধোয়ার পর ব্যবহার করুন এবং কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে এটি বেশি ব্যবহার করা উচিত না।

অ্যালোভেরা: অ্যালো ভেরার রস মাথার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে কিছুক্ষণ অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।