‘গতর খাটিয়ে খাই, শ্রমিকের অধিকার চাই’। গত ৩০ বছর ধরে যৌনকর্মীদের এই দাবি নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সংগঠন ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’। ৩০ বছর পূর্তিতে সমাজে ‘ব্রাত্য’ হয়ে থাকা সেই মানুষগুলোকে নিয়েই জমাটি উদযাপনে মেতে উঠল তারা।

গত ১২ থেকে ১৫ জুলাই চিৎপুরের রবীন্দ্র কাননে ‘দুর্বার’-এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একজোট হয়েছিলেন কলকাতা ও বাংলার নানা প্রান্ত, দেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলির নানা জায়গা থেকে আসা যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীরা। নিয়ে এসেছিলেন নিজেদের সন্তানদেরও। সকলে মিলেই সামিল হয়েছিলেন এই আনন্দ যজ্ঞে। স্বহস্তে মোমবাতি জ্বালিয়ে যে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন নানা প্রান্ত থেকে আসা ৩০ জন যৌনকর্মী।  

 

দুর্বার’-এর ডাকে চার দিনের উৎসবে বিভিন্ন জরুরি আলোচনা চক্রে যোগ দিয়েছেন সমাজের নানা ক্ষেত্রের গুণীজনেরা। চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অভিনেত্রী, শ্রমিক সংগঠনের নেতা, কেউই বাদ যাননি। আলোচনায়-তর্কে-বিতর্কে উঠে এসেছে যৌনকর্মীদের জীবন, জীবিকা, ভাল থাকা, স্বাস্থ্য-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ চর্চা। নাচে, ছবি আঁকায়, মজার খেলায় নিজেদের প্রতিভায় সমানতালে নজর কেড়েছে যৌনপল্লিতে বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েরাও। সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে ছিল থিয়েটার, বাংলা ব্যান্ডের আসর, নাটুয়া নৃত্য। বিভিন্ন দিনে উৎসবের আঙিনায় এসে যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজের নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত মুখেরা। সেই তালিকায় ছিলেন টলিপাড়ার অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, রাজন্যা মিত্র, মনীষা মণ্ডলও।

তবে নিৎসন্দেহে ‘দুর্বার’-এর উদযাপনের সেরা আকর্ষণ ছিল ১৩ এবং ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় দু’টি ফ্যাশন শো। যার একটিতে অংশ নেন যৌনকর্মীরা, অন্যটিতে রূপান্তরকামীরা। তাঁদের প্রত্যেকের চোখধাঁধানো পারফর্ম্যান্স দর্শকদের তো বটেই, মুগ্ধ করেছে বিচারকের আস