সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। রোগভোগ প্রতিরোধ করতে, শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করতে রোজ নির্দিষ্ট পরিমাণে জল পানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। জলের অভাবে শরীরে ডিহাইড্রেশন সহ জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। প্রত্যেকের শরীরে জলের চাহিদা এক রকম নয়। তবে সাধারণত দিনে ৩-৪ লিটার জলপান করা উচিত। তবে শুধু জল পান করলেই চলবে না, সঠিক পদ্ধতিতে জল খাওয়াও প্রয়োজন। কারণ ভুলভাবে জল খেলে উল্টে হতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বসে জল করার অভ্যাস যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি দাঁড়িয়ে জল পান করা শরীরে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন আমরা বসে জল পান করি তখন শরীর এক প্রকার শান্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় জল ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে, এবং পাচনতন্ত্রসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সময় নিয়ে সেটি গ্রহণ করতে পারে। বসে জল পান করলে জল পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে সঠিকভাবে সঞ্চালিত হয় ফলে পুষ্টিগুণ সহজেই রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়।

অন্যদিকে, দাঁড়িয়ে জল পান করলে শরীরে তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয়। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শরীর জল খুব দ্রুত নিচে নেমে যায়। এতে পাকস্থলী ও অন্ত্র পর্যাপ্ত সময় পায় না সেই জল শোষণ করার জন্য। এর ফলে হজমের সমস্যা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি এমনকি কিডনির ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত পান করার এই অভ্যাসের ফলে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের আশেপাশে জল তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বসে জল পান করার আরেকটি বড় উপকারিতা হল এটি শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশমিত করে। বসার ভঙ্গি শরীরে একধরনের ভারসাম্য তৈরি করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া বসে ধীরে ধীরে জল পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত হয় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থও দ্রুত বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দিনে অন্তত আট গ্লাস জল পান করুন, তবে প্রতিবার বসে ধীরে ধীরে খান। জল খাওয়ার আগে ও পরে কয়েক মিনিট সময় দিন যেন শরীর স্বাভাবিকভাবে তার উপকার নিতে পারে। তাই বসে জল পান করুন। এই ছোট পরিবর্তনটাই হয়তো আপনাকে দীর্ঘদিন রাখবে হৃদয় ও মস্তিষ্কের দিক থেকে আরও সক্রিয় ও সুস্থ।