কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হয়ে উঠছে? সম্প্রতি এমনই এক প্রশ্ন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটি এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠছে ব্যক্তিগত পরামর্শদাতা, এমনকি মানসিক সঙ্গীও। আর সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্বেগ।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, ভারতে বহু মানুষ সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছেন। কেউ প্রেমে সমস্যা হলে AI-এর সঙ্গে আলোচনা করছেন, কেউ আবার বিবাহিত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে পরামর্শ চাইছেন। এমনকি সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়ার পর ChatGPT-কে বিচারকের আসনে বসানো হচ্ছে৷
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এটি ব্যবহারকারীর কথাকেই অনেক সময় সমর্থন করে। অর্থাৎ কেউ যদি নিজের সঙ্গীকে ‘টক্সিক’ বা ‘উদাসীন’ বলে তুলে ধরেন, AI সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও জোরালো করতে পারে। ফলে সম্পর্কের জট খুলতে না পেরে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়ে।
মনোবিদদের কথায়, AI কখনও মানুষের আবেগ পুরোপুরি বুঝতে পারে না। এটি সহানুভূতি দেখাতে পারে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণ করতে পারে না। থেরাপির মতো জায়গায় যেখানে আত্মসমালোচনা ও দু’পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে AI অনেক সময় একপাক্ষিক সমর্থন দেয়।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে এখনও এমন কোনও নজির নেই যেখানে আদালত AI-কে সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, ChatGPT নিজে সম্পর্ক ভাঙছে না, বরং সম্পর্কের ভিতরে আগে থেকেই থাকা দূরত্ব বা সমস্যাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। প্রযুক্তি যতই এগোক, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন খোলামেলা কথা বলা, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মান৷















