'যোধা আকবর' বলুন বা 'দেবদাস', এই ছবিগুলোতে নিশ্চয় খেয়াল করেছেন যে ভারতীয় রাজবাড়ি বা জমিদারবাড়ির মহিলারা চুলে ধূপের ধোঁয়া দিতেন। কিন্তু এই দৃশ্য দেখে কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন? চুলে ধূপের ধোঁয়া কেন দেওয়া হতো? কী উপকার পাওয়া যেত? কারণটা জানলে চমকে উঠবেন!
বর্তমান সময়ে ব্যস্ততার কারণে যেখানে অনেকেই ঠিক করে চুল বা রূপচর্চা করে উঠতে পারেন না, সেখানে নিয়মিত চুলে ধূপের ধোঁয়া দেওয়া নেহাতই বিলাসিতা মনে হতেই পারে। কিন্তু একটা সময় এটা রীতিমত রেওয়াজ ছিল। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তবে যে সে ধূপের ধোঁয়াও কিন্তু আবার অতীতে ভারতীয় মহিলারা চুলে দিতেন না। তাহলে?
এটি আদতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বা টোটকা। সম্ব্রাণী ধূপের দেওয়া হতো আগ মহিলাদের চুলে। চুলের পরিচর্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটি। এবার প্রশ্ন আসতেই পারে, কী এই সম্ব্রাণী ধূপ? এটা আদতে একটি প্রাকৃতিক, সুগন্ধির রেসিন যেটি সাইরেক্স গাছ থেকে পাওয়া যায়। এর সুগন্ধ মন মাতায়। শুধু তাই নয়, চুল এবং মাথার ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করে।
আয়ুর্বেদ মতে, স্নান করার পরই ভেজা চুলে ধূপের ধোঁয়া দিলে সেটা মাথা ঠান্ডা রাখে, বিভিন্ন দোষ কমায়। মেন্টাল ফগ, আজকাল ভীষণ শোনা যায় সেটা কাটাতে সাহায্য করে। এমনকী ইমোশনাল ব্যালেন্স রাখতে সাহায্য করে। নেতিবাচক শক্তিকে দূরে রাখে।
নিম, তুলসির সঙ্গে সম্ব্রাণী ধূপের ধোঁয়া মিশিয়ে দিলে চুল বা মাথার ত্বকে কোনও ইনফেকশন হতো না। ঘাম বসত না। খুশকি দূর হতো। মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ত, যা আখেরে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
তবে, রোজ কি এই ধূপের ধোঁয়া দেওয়া উচিত? না। মাসে একবার বা দুইবার দেওয়া যেতে পারে। শ্যাম্পু করার পর এটি করতে পারেন। চাইলে এই ধোঁয়ার জন্য কর্পূরও ব্যবহার করতে পারেন। কেন রোজ ব্যবহার করা উচিত নয়? এই ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য বিশেষ ভাল নয়। তাই রোজের বদলে সপ্তাহে এক দিন বা পনের দিনে একদিন চুল ভাল রাখতে, রিল্যাক্স করতে এটি করতে পারেন।
