ছোট থেকেই বাঙালি, তথা ভারতীয়দের কাছে চাঁদ 'মামা'। এবার আর সেই 'মামাবাড়ি'কে দূর থেকে দেখে স্বাদ মেটানোর দিন শেষ। বরং মামাবাড়িতে এক রাত্তির কাটিয়ে, চাঁদের চরকা বুড়ির সঙ্গে বসে খোশ গল্প করার দিন আসতে চলেছে। ভাবছেন এসব কী? আজগুবি ব্যাপার? না, না। একদমই নয়। বরং বাস্তবেই এমন ঘটতে চলেছে।
জানা গিয়েছে আমেরিকার এক সংস্থা বিশ্বের মধ্যে প্রথমবার এক অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে। সেই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে তাঁরা বিশ্বের প্রথম লাক্সারি হোটেল বানাতে চলেছে চাঁদে। ফলে এবার পৃথিবীর বাসিন্দারা চাইলেই 'মামাবাড়ি' গিয়ে থাকতে পারেন।
তবে, এই মামাবাড়ি কিন্তু ফোকটে থাকা যাবে না। বরং বেশ বড় অঙ্কের গাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে। এক রাত চাঁদে থাকার মূল্য কত? এই স্পেস স্টার্ট আপ সংস্থার বানানো চন্দ্রপৃষ্ঠের বিলাবহুল হোটেলে এক রাত থাকতে খরচ করতে হবে ৪,১০,০০০ ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় টাকায় প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, মাত্র!
ব্যাপারটা কেমন হবে? চাঁদের মাটিতে একটি ফিউচারিসটিক কাচের গোলাকার হোটেল বানানো হবে। এটি মূলত মহাকাশচারী এবং বিত্তশালী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বানানো হবে, যাঁরা চাঁদে গিয়ে থাকবেন। এই হোটেল থেকে পৃথিবীর প্যানোরমিক ভিউ উপভোগ করা যাবে। সঙ্গে কম বা একেবারেই শূন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে থাকার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে। পৃথিবীর বাইরেও এই বিলাসবহুল হোটেলে মিলবে সমস্ত অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা।
জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে এই লাক্সারি হোটেলে রাত কাটানোর জন্য। তবে এই প্রজেক্ট কেবল বিলাসবহুল ভাবে এক রাত চাঁদে কাটানোর বিষয়েই ক্ষান্ত থাকবে না। বরং এটি সেই দিকেও নজর দেবে হাতে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ চাঁদে থাকতে পারে। এবং এই প্রজেক্টের হাত ধরেই মহাকাশ ভ্রমণের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ঘোষণা হতে না হতেই এই প্রজেক্ট গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে।
একদম প্রাথমিক স্টেজে থাকা সত্ত্বেও একদিকে যেমন এই প্রজেক্ট নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তেমনই এটা কতটা টেকসই, ভবিষ্যৎ কী সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে বিপুল অঙ্কের দাম তো একটা মাথা ব্যথার কারণ বটেই! তবে কে বলতে পারে, যদি বিষয়টা প্ল্যানমাফিক হয়, তবে হয়তো কোনও একদিন আর মালদ্বীপ বা বালি নয়। বরং চাঁদ হয়ে উঠবে ছুটি কাটানোর অন্যতম পছন্দের গন্তব্য!
