খাওয়ার পর শরীরের ভিতরে কী ঘটে, তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে দিনের সবচেয়ে বড় মিল- দুপুর বা রাতে খাওয়ার পর রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই বাড়তি শর্করাই যদি ব্যবহৃত না হয়, তাহলে শরীর সেটিকে চর্বি হিসেবে জমা করে রাখে। তবে একটি খুব সহজ অভ্যাস এই সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে। যা হল খাওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিট হালকা হাঁটা।

দিনের সবচেয়ে বড় মিলের পর অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়েন বা শুয়ে পড়েন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিট হালকা হাঁটা রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

গবেষণা বলছে, খাওয়ার পর হালকা গতিতে হাঁটলে শরীর তখনকার চলমান গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ইনসুলিনের হঠাৎ বাড়াবাড়ি কমে। অর্থাৎ শরীর খাবারের শক্তিকে কাজে লাগায়, চর্বি হিসেবে জমা করে না। 

খাওয়ার পর হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে শরীরের বড় মাংসপেশি , বিশেষ করে পা ও নিতম্বের পেশি সক্রিয় হয়। এই পেশিগুলো বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যার ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে। সহজে বললে, শরীর ইনসুলিনকে আরও ভালভাবে কাজে লাগাতে শেখে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হালকা হাঁটা শরীরে ফ্যাট অক্সিডেশন বা ফ্যাট বার্নের প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, কিন্তু শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দেয় না। এতে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব কম থাকে।

এর ঠিক উল্টো ছবি দেখা যায় খালি পেটে দীর্ঘ সময় কার্ডিও এক্সারসাইজে। যদিও এটি জনপ্রিয়, কিন্তু অনেক মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে দীর্ঘ সময় দৌড়ানো বা ভারী ব্যায়াম করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। কর্টিসল বেশি হলে শরীর চর্বি ধরে রাখতে চায়, ফলে ওজন কমার বদলে উল্টো ফলও হতে পারে।

তাই যাঁরা খুব ব্যস্ত, জিমে যাওয়ার সময় পান না বা শরীরচর্চা শুরু করতে ভয় পান, তাঁদের জন্য খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটা হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান। কোনও বিশেষ যন্ত্রপাতি লাগে না, ঘাম ঝরানোর দরকার নেই, তবুও এর সুফল অনেক।