আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রবল জনরোষের মুখে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। আহত হলেও তাঁকে একের পর এক হাসপাতাল ফিরিয়ে দিয়েছে। কোথাও ভর্তি করানো যায়নি অভিষেককে। শেষমেশ তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। আক্রান্ত অভিষেককে নিয়ে এবার মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।
গতকালের প্রসঙ্গে আজ সকালে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, "অভিষেক ব্যানার্জিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। হাসপাতালগুলিতে জোর করে ভর্তি করানোর জন্য মমতা ব্যানার্জি ক্রমাগত চাপ দিয়েছেন।"
তিনি বলেন, "তৃণমূল নেতাদের বলছি। বাড়ি থেকে বেরোবেন না। পাবলিক ক্ষেপে আছেন। আমরা ভাল কাজ করছি। টিভিতে দেখুন। নাহলে আমাদের হাতে এত পুলিশ নেই যে আপনাদের পাহারা দেবে। এখন বেরোবেন না বাড়ি থেকে।"
এরপরই দিলীপ ঘোষ বলেন, "যখন নাড্ডার গাড়িতে পাথর মেরেছিল, আমি নিজে সেই গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি বুলেট প্রুফ ছিল। নাহলে সেদিন আমরা কেউ বাঁচতাম না। সেটা যদি জনরোষ হয় তাহলে এটাও জনরোষ। নাটক, ড্রামা, গিমিক কিচ্ছু আর চলবে না। বদলে গেছে বাংলা। এবার ঠেলা সামলা। দেখ কেমন লাগে।"
তাঁর দাবি, "তৃণমূল আমলে যতো বড় বড় ক্রিমিনাল, তাদেরকে পুলিশ প্রোটেকশন দেওয়া হত। কেন দেওয়া হবে? মমতা ব্যানার্জি এখনও থ্রেট কালচার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জমানা বদলে গেছে, এসব আর চলবে না। অভিষেক ব্যানার্জি গুন্ডা, তোলাবাজ ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করতে যান না।"
প্রসঙ্গত, সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জি পৌঁছতেই শুরু হয় তুলকালাম। মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার মাঝপথেই অভিষেককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। মুহূর্তে পরিস্থিতি হয় ধুন্ধুমার। প্রথমে চোর চোর স্লোগান। পরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে ঢিল, ডিম, জুতো ছোঁড়া হয়। দেখানো হয় কালো পতাকা। প্রবল জলরোষের জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেককে হেটমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ছিঁড়ে যায় অভিষেকের সাদা জামা।
এরপর অভিষেক বলেন, এখনও একমাস হয়নি। তার মধ্যেই এই অবস্থা। পুলিশকে বারবার বলা সত্ত্বেও এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। সেখানে গিয়ে অভিষেক বলেন, "আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরে দিক আমাকে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। একটা পুলিশ নেই। দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে।"
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের নির্দেশ, "এইরকম ঘটনা ঘটলে পুলিশকে হোয়াটসঅ্যাপ করে রাখুন। রেকর্ড থাকবে। আজকের ঘটনা নিয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।"
এরপর কিছুক্ষণ পর অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, শাসক হল হত্যাকারী। বিজেপির লজ্জা করা উচিত।















