বিউ সরকার: একদিকে মেয়েকে খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযোগ ছেলের রহস্যমৃত্যু। সন্তানের মৃত্যুর বিচার চেয়ে, এবার সোজা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে দুই মা। বৃহস্পতিবার বিজেপির দপ্তরে জনতার কথা শুনতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই আসেন সুস্মিতা প্রধান, সুতপা আচার্য।
সুস্মিতা প্রধান। বারাসতের বাসিন্দা। ছেলের নাম অমিত প্রধান। বয়স ৩২। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর একটি রহস্যজনক ঘটনা ঘটে। অমিতের অফিস বারাসত স্টেশনের কাছে। অমিতের বাড়ি বারাসত ন পাড়া। অভিযোগ, অফিস থেকে বাড়ির পথে ব্যারাকপুর রোড এই রাস্তাটা পড়েই না। অথচ পুলিশ জোর করে বয়ান লিখিয়েছে, ব্যারাকপুর রোডে গাড়ির ধাক্কায় অমিতের মৃত্যু হয়েছে। তা একেবারেই সম্ভব নয়, দাবি পরিবারের।গোটা ঘটনাই এখনও রহস্যে মোড়া। এবার সেই রহস্য সরিয়ে ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মা-বাবা।
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগরের সুতপা আচার্য। মেয়ের নাম সুদীপ্তা আচার্য। ২০২৪ সালের লক্ষ্মীপুজোর আগের রাতে সুদীপ্তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ তার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের। জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে আচার্য পরিবারের আইনজীবীর চেষ্টায় খুনের অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও বিচার পাননি তাঁরা। এদিন মেয়ের ন্যায় বিচারের আশায় 'মা' ছুটে আসেন জনতার দরবারে।
রাজ্য বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরে বৃহস্পতিবার ফের মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারের আয়োজন করা হয়েছে। এই নিয়ে নবম জনতার দরবার। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই, মানুষের মনের কথা শুনতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজেদের কথা বলতে, দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। গত কয়েকবারে, বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে দরবারের সামনে। হাতেনাতে মিলেছে সমাধান সূত্রও। এবারেও তার অন্যথা নয়। কেউ হারিয়েছেন নিজের সন্তানকে , কেউ দাদাকে, কারও দাবি চাকরি নিয়ে, কারও অভিযোগ জমি-দখল নিয়ে, অভিযোগের তীর কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে, কেউ আবার চিকিৎসা সংক্রান্ত-সহ নানান জটিলতা নিয়ে জনতার দরবারে এসেছেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ৪২ জন সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন বলেই জানা গিয়েছে প্রাথমিকভাবে। সমাধান মিলবে, আশায় ভিড় হয়েছিল বিজেপির দপ্তরের বাইরে।
















