আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি। বেসুরো একাধিক দলীয় বিধায়ক, নেতা! দিশাহার কর্মীরা। সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অবস্থায় রাস্তায় বেরতেই জনরোষের শিকার অভিষেক ব্যানার্জি। মার খেয়েছেন সাংসদ কল্যান ব্যানার্জিও। জোড়া-ফুলে টানাপোড়েনের মধ্যেই রবিবার তৃণমূলের বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকের ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু, সেখানে হাজির হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন বিধায়ক। যা দেখে আর বৈঠকই হল না।
যদিও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, নিজেদের এলাকায় সাগঠনিক কাজে ব্যাস্ত থাকায় অনেক বিধায়ক রবিবার তাঁদের না আসতে পারার বিষয়টি দননেত্রীকে জানিয়েছেন। অনেকেই অভিষেক ব্যানার্জির উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল ও কর্মসূচিতে ব্যস্ত, কেউ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় কর্মীদের আইনি ও সাংগঠনিক সহায়তা দিচ্ছেন। ফলে অনেকেই বৈঠক অন্যদিন করতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধকেই মান্যতা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।
সাংবাদিকদের তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, "অনেক বিধায়কই দলীয় নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাঁরা দলের সঙ্গেই আছেন। কিন্তু, বর্তমানে নিজেদের এলাকায় বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তাঁরা। কেউ অভিষেক ব্যানার্জির উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল ও কর্মসূচি করছেন, কেউ আবার মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় কর্মীদের আইনি ও সাংগঠনিক সহায়তা দিতে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে এইসব বিধায়কদের পক্ষে এলাকা ছেড়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এঁরা আগের দিন থেকেই দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকটি অন্য কোনও দিনে করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই বৈঠকটি আপাতত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হল।"
জানা গিয়েছে, রবিবার মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চ্যাটার্জি, কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিমান ব্যানার্জি, প্রাক্তন চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি, মেটিয়াবুরুজের আব্দুল খালেক মোল্লা, ধনেখালির অসীমা পাত্র এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং মন্ত্রী মন্ত্রী পুলক রায়। এছাড়াও হাজির ছিলেন কালিগঞ্জের বিধায়ক খলিফা আহমেদ, বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফ উর রহমান, বিধায়ক মোশারাফ হোসেন। বৈঠকে যোগ দেন, পাথরপ্রতিমার সমীর পাঁজা, মালতিপুরের রহিম বক্সি, বজবজের অশোক দেব, রুকবানুর রহমান, পাঁচলার গুলশন মল্লিক, স্বরূপনগরের বীনা মণ্ডল, চাপড়ার জেবের শেখ ও হরিশচন্দ্রপুরের মতিবুর রহমান। অর্থাৎ, ২০ জন বিধায়ক নেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।
শনিবার সোনারপুরে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হলেও রবিবারের বৈঠকে নেত্রীর বাড়িতে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি।
বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নানা বিষয় নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পারদ চড়ছে। শাসক থাকালীন দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন অনেক হেভিওয়েট। দল বিরোধী মন্তব্য়ের জেরে বেশ কয়েকজন নীচু তলার নেতাকে সাসপেন্ড করলেও ক্ষতে মলম দেওয়া যায়নি। জোড়-ফুলের অন্দরে বড় ভাঙনের জল্পনা উঁকি মারছে। এই পরিস্থিতিতে দলে ভাঙন ঠেকাতে রাখতে এবং বিধায়কদের মন বুঝতে বৈঠকের ডাক দেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু, তাঁর কথাও তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়কের কাছে আমল পেল না।















