দীক্ষা ভুঁইয়া: চন্দ্রবিন্দু গেয়েছিল, 'এভাবেও ফিরে আসা যায়!' জীবনানন্দ লিখেছিলেন, 'আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়িটির তীরে।' উদ্বাস্তু বাঙালি বারবার শিকড়ের সন্ধান করেছে, বারবার সে ফিরে যেতে চেয়েছে নিজের মাটির কাছে, ভাষার কাছে, ভিটের কাছে। কলকাতা ছিল তসলিমা নাসরিনের দ্বিতীয় বাড়ি বলা চলে। আর প্রায় ১৯ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরছেন সেই তসলিমা। ফিরছেন নিজের ভাষার মানুষের কাছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট জুড়ে শুধু সেই প্রত্যাবর্তনের খবর। তিনি নিজে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন, শেয়ার করছেন একের পর সংবাদমাধ্যমের লিঙ্ক। কলকাতার গন্ধ পেতে তিনি যে গভীর অপেক্ষা করছিলেন, পরপর পোস্টেই সেটা স্পষ্ট। হ্যাঁ, তিনি ফিরছেন। কিন্তু, কবে, কীভাবে, সেটাই খবর মিলেছে পুলিশ সূত্রে।
২০০৭ নভেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। তিনি ফিরছেন ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। আদৌ তিনি এখানে ফের পাকাপাকি থাকতে পারবেন কী না, জানা নেই, তবে প্রাথমিক ভাবে যা তথ্য মিলেছে, তাতে এই লপ্তে মোট চারদিন শহরে থাকবেন তিনি। এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন নিউইযর্ক সিটিতে। দিল্লিতে ফিরে আসবেন । ৩১ জুলাই দিল্লি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন। কলকাতার মাটিতে দুপুরে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেড প্লাস নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে আনা হবে পাঁচতারা এক হোটেলে। সফরের সময়সীমা, ৩১ জুলাই দুপুর থেকে ২ অগাস্ট। ৩ অগাস্ট কলকাতা ছাড়বেন তিনি।
১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠান। যেমনটা আজকাল ডট ইন মঙ্গলবার প্রথমবারের জন্য লেখে, সেখানে নিজের লেখা পাঠ করবেন । রাখবেন নিজের বক্তব্য। পাশাপাশি তসলিমার কবিতা থেকে তৈরি হওয়া বেশ কয়েকটি গানের পরিবেশনাও থাকবে সেখানে। পাশাপাশি, সেই অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনিও বক্তব্য রাখতে পারেন বলে খবর। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষদের থাকার কথা রয়েছে সেই অনুষ্ঠানে। এই কলকাতা আবার কথা শুনবে দ্বিখণ্ডিত, আমার মেয়েবেলা-এর লেখিকার। লেখার জন্য ১৯৯৪ থেকে তাঁকে মৌলবাদী হুমকির মুখে নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। আশ্রয় নিতে হয়েছিল কলকাতায়। কিন্তু মৌলবাদী শক্তির রোষে পড়ে “দ্বিতীয় বাড়ি” ও ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রেস কনফারেন্স করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
তসলিমাকে নিয়ে নানারকম প্রশ্ন রয়েছে বাংলার মণীষা মহলে। তৎকালীন বাম সরকারের আমলে তসলিমার ফিরে চলে যাওয়া নিয়ে সুনীল গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের সাহিত্যিক সমাজকর্মীরা সরব হয়েছিলেন। তাঁরা সওয়াল করেছিলেন তসলিমার হয়ে। কিন্তু আগের সরকার সে বিষয়ে বিশেষ কিছু করেনি। বরং উদাসীন ছিল, ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই তসলিমার ফেরার কথা হয়। সেই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় অবস্থিত তসলিমার বন্ধু, সহকর্মীরা যোগাযোগ রাখছিলেন। তাঁরাই এবার ফেরার পথ মসৃণ করলেন। রবীন্দ্র সদনের সেদিনের অনুষ্ঠান কেবল আমন্ত্রণমূলক। সাধারণ মানুষ কিন্তু এখনই চাইছেন, সংস্কৃতির শহর কলকাতা কোনও ধর্মীয় গোঁড়ামিকে পাত্তা না দিয়ে যেন সসন্মানে পাকাপাকি থাকতে হয় তসলিমাকে। যদিও সে নিয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি নির্দেশ এখনও মেলেনি।
















