আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতার হাত ছাড়লেন, ঋতব্রতর পাশে বসে। বললেন, এঘর থেকে গেলেন ওঘরে। কিন্তু কারণ? কারণ কি সেই অভিষেক? জল্পনা ছিলই। জল্পনার অবসান ঘটালেন মদন নিজেই। জানিয়ে দিলেন নিজের উত্তর।

মদন মিত্র শিবির বদল করায়, কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য ছিল, ইডি'র ভয়ে শিবিরত্যাগের সিদ্ধান্ত মদনের। কারণ, ঠিক বুধের আগেরদিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার মদন মিত্রর স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে হাজির হওয়ার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। কালীঘাট তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আজকাল ডট ইন-কে জানান, 'মদনের স্ত্রী-ছেলের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এসব গণতান্ত্রিক দেশে ঘটে না। মদন আমাদের সহকর্মী। পরশু দিন রাত্রেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এসব কোনও গণতান্ত্রিক দেশে হয় না। এটা দুর্ভাগ্যের বিষয়।' 

তবে কি ইডির ভয়েই মদনের শিবিরবদল? প্রশ্ন শুনেই অভিষেককে নিশানা করে তৃণমূল নেতার সাফ উত্তর, 'আমারতো ইডির থেকে ভয় ছিল বেশি। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞাসা করবে। এখানে এবি কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে, ভগবান জানে!' এখানেই শেষ নয়, মদন আরও বলেন, 'অভিষেক ব্যানার্জি জীবনে যায়নি, আমি ২৭ মাস জেলে ছিলাম। দলের বিরুদ্ধে বলিনি।' 

মমতার দীর্ঘ লড়াইয়ের সঙ্গী মদন, সঙ্গত্যাগ করে বলছেন, তিনি মমতার ছায়া সঙ্গী হতে পেরেছেন, পাশে হাঁটতে পারেননি। বলছেন, 'আমি ছায়াসঙ্গী ছিলাম। হেঁটে গেলে, ছাঁইয়ার সঙ্গে হাঁটতাম, পার্শ্বসঙ্গী ছিলাম না।'

এর আগে, মঙ্গলবারেই স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে পৌঁছে যান মদন মিত্র। কয়েক মিনিট ছিলেন সেখানে। জল্পনা তখন থেকেই শুরু হয়, তাহলে কি এবার মমতার একেবারে শুরুর দিকের সঙ্গীও হাত ছাড়ছেন? জল্পনা সত্যি হল, বুধবার সকালেই। এদিনই সজা বিধানসভায় পৌঁছে যান মদন মিত্র। সেখানে কবিতা আওড়ে বোঝান জীবনের কোন পরিস্থিতিতে এখন দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। সেই সময় মদনের পাশে ছিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহাও। ২১ জুলাই শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে মদন মিত্র ঋতব্রত শিবিরে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। 

 

ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই, মদন মিত্র বলেন, তিনি তৃণমূলেই ছিলেন, তৃণমূলেই রইলেন। কেবল বদল করলেন শিবির। এর আগেও, গত কয়েকদিনে একে একে মমতার সঙ্গীরা হাত ছেড়েছেন। এর আগে, তালিকায় শেষ নাম ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তারপরেই এবার তালিকায় মদন মিত্র।