আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা। 'গুরুতর, অন্যন্ত অ্যালার্মিং' বিষয় নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুরুতেই তিনি বলেন, মন্তব্য, 'আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক, সমাজ-রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্য।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিষদীয় মন্ত্রী, শঙ্কর ঘোষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন। তারপরেই বিধানসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
হুমায়ুনের বক্তব্য টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এখানে এখন আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা, কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালন একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।' 'লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটাভাঙা মার দেব, আর জেলে যাব। ক'দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন আর কত খাওয়াতে পারবেন, দেখব। '
৮ তারিখের অপর এক ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। ওসি সংক্রান্ত হুমায়ুনের বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এই দুই ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে, সময় এসেছে, এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন। যা খুশি বলেছেন।' তারপরেই তিনি জানান, দুটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই, এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সঙ্গেই বলেন, 'এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। মুখে যেগুলো বলেছেন, আপনাকে বলে গেলাম, আপনি কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি।'
কেন হুমায়ুন এই ধরনের মন্তব্য করেছেন? কারণ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনি দুটো আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে একটি আসন থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রেজিনিগর এ উপনির্বাচনে আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট একত্রিত করতে এই খেলা খেলছেন। কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এইভাবে বেপরোয়া ধমক হুমকি লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না।'
সন্দেশখালীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তুলে ধরার ক্যানিংয়ের প্রসঙ্গ, জাহাঙ্গিরের প্রসঙ্গ। একাধিক উদাহরণ দিয়ে তিনি হুমায়ুনকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেন এদিন বিধানসভা থেকে। বলেন, 'আপনাকে আমি বলে গেলাম, পুলিশ তার ব্যবস্থা নেবে। আমি এক সপ্তাহ পর মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। আমি প্রমাণ করে দেব, ভারতবর্ষের আইন-সংবিধান শেষ কথা বলে।' সংযত, সতর্ক হওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভায় যাঁরা হুমায়ুন কবীরকে ডেকেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহোন করা হবে। 'যাঁরা ওঁকে ডেকেছিল ওই সভাতে, তাদেরকে আগে তুলব। তারপরে আপনার কাছে যাব। যা করার করব, আশ্বস্ত করছি। ধরে রাখুন, এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।'















