আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ভোটের ফল ঘোষণার পর 'ডিজে' বাজানোর কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। শনিবার উল্টে তাঁর উপরেই হামলার ঘটনা ঘটে সোনারপুরে। প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। মৃত তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকারের বা়ডিতে যাওয়ার মাঝপথেই অভিষেককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। শেষমেশ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় এলাকা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন তিনি। এই ঘটনায় কার্যত অভিষেককেই বিঁধলেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। তবে ঘটনার নিন্দা করেছেন সৃজন ভট্টাচার্য।

 

নির্বাচনী প্রচারে গত মার্চ মাসেই নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। দলীয় কর্মী পবিত্র করের হয়ে প্রচারে 'পবিত্র' নন্দীগ্রাম গড়ার ডাক দেন অভিষেক। কর্মিসভায় গিয়ে বলেন," চার তারিখের পর, রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজানো হবে। তাঁর এই মন্তব্যে সেই সময় শোরগোল পড়ে যায়। সেই মন্তব্যকেই কটাক্ষ করে শনিবারের ঘটনায় সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেন শতরূপ ঘোষ। তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'ডিজে বাজবে শুনেছিলাম। আজ বুঝলাম ডি ফর ডিম, জে ফর জুতো।'

 

অন্য দিকে, আর এক বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, "তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ধীরেন লেট, গোপাল গায়েনদের মুখ মনে রেখে, ভবিষ্যতেও আবারও এমনভাবেই তীব্র নিন্দা জানাতে চাই।" খানিক থেমে সৃজনের অবশ্য সংযোজন, "তবে, এসবে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে ভাসিয়ে তোলা ছাড়া আর কিছু হয় না। আসল কথা হল আইনি পথে চুরিডাকাতির শাস্তি হল কিনা, প্রতারিতদের সুবিচার হলো কিনা।"

 

ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বাইকে করে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ তার পরেও এগোতে থাকেন। তখন তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ।

 

অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও কোথা‌ও মহিলাদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে বাইক নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

 

কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর। মাঝখানে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিআইডি-র নোটিস নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক । কিন্তু সোনারপুরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ঢোকার আগেই রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। অভিষেককে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পাটুলির কাছে ঢালাই ব্রিজ় থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ, সর্বত্র বিজেপি কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।