আজকাল ওয়েবডেস্ক: “আমার প্রেমিকাকে ফিরিয়ে দাও… না হলে আমি মরে যাব।” মঙ্গলবার দুপুরে শিয়ালদহ স্টেশনে পদাতিক এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে বারবার এই কথাই চিৎকার করে বলছিলেন এক যুবক। ট্রেনে ওঠার তাড়া, বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা- সবকিছু থমকে যায় মুহূর্তে। শত শত যাত্রী তাকিয়ে দেখছিলেন এক ভেঙে পড়া মানুষের অসহায় আর্তি।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় ওই যুবকের। সেই বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বন্ধুরা নিত্যদিন তাঁকে কটাক্ষ ও ঠাট্টা করছিলেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যুবক। সেই মানসিক চাপই এদিন বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

পদাতিক এক্সপ্রেস শিয়ালদহ স্টেশনে ঢোকার পর আচমকাই ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন তিনি। নীচে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার প্রেমিকাকে ফিরিয়ে দাও। না হলে ওভারহেডের তার ছুঁয়ে দেব।” ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্টেশনজুড়ে। কেউ মোবাইলে ভিডিও করতে শুরু করেন, কেউ আবার উদ্বেগ নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। কীভাবে তাঁকে নিরাপদে নামানো যায় তা নিয়েই চর্চা চলে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)। প্রথমে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন জাওয়ানরা। কিন্তু যুবক তখনও অনড় ছিলেন। বারবার বলতে থাকেন, “আমি কারও কথা শুনব না। আমার বন্ধুদের চাই, আমার প্রেমিকাকেও চাই। না হলে আমি মরব।”

প্রায় ১০ মিনিটের ধৈর্য, বোঝানো এবং কৌশলী অভিযানের পর দু’দিক থেকে ট্রেনের ছাদে উঠে যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করেন আরপিএফ জওয়ানরা। পরে তাঁকে নীচে নামিয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক অসমের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা ও সামাজিক বিদ্রুপের চাপই তাঁকে এমন চরম পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দেয়।

শিয়ালদহ স্টেশনের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আর কারও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।