রিয়া পাত্র: মদন মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন। শুধু ছাড়েননি, হাত ধরেছেন কালীঘাট শিবিরের বিপরীতে অবস্থানকারী, ঋতব্রত শিবিরে। কালীঘাট শিবির বলছে, ইডি'র ভয়ে, শিবির বদল। অন্যদিকে, অনুব্রতর সঙ্গেই এক সারিতে মদনকে বসিয়ে ঋতব্রত বুঝিয়ে দিয়েছেন, মদনকে নিজেদের শিবিরের পরম 'মিত্র' হিসেবেই দেখছেন। এর মাঝেই প্রশ্ন, তাহলে কি অনুব্রতর মতোই এবার বড় দায়িত্ব মদনকেও? কারণ, ১১ জুলাই ঋতব্রত শিবির যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, বীরভূম সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে অনুব্রত। তাহলে কি এবার বড় দায়িত্বে দীর্ঘদিনের রাজনীতির পোড় খাওয়া মদন?
আজকাল ডট ইন এই প্রশ্ন করলে, যদিও ঋতব্রত জানান, 'এই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সকলে মিলে, আলোচনা করেই, নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। এই প্রসঙ্গেই ঋতব্রত পুনরায় তাঁদের 'কালেকটিভ' তত্বের প্রসঙ্গও তুলে এনেছেন।
ঋতব্রত এদিন মদনের শিবির বদল নিয়ে ফের বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি একাধিপত্যের বিরুদ্ধে সমষ্টির লড়াই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, চোখরাঙানির বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। মদন মিত্র বর্ষীয়ান নেতা, বিধায়ক। তাঁর যোগদানে আমাদের কালেকটিভের লোরাই শক্তিশালী হবে।'
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারেই স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে পৌঁছে যান মদন মিত্র। কয়েক মিনিট ছিলেন সেখানে। জল্পনা তখন থেকেই শুরু হয়, তাহলে কি এবার মমতার একেবারে শুরুর দিকের সঙ্গীও হাত ছাড়ছেন? জল্পনা সত্যি হল, বুধবার সকালেই। এদিনই সোজা বিধানসভায় পৌঁছে যান মদন মিত্র। সেখানে কবিতা আওড়ে বোঝান জীবনের কোন পরিস্থিতিতে এখন দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। সেই সময় মদনের পাশে ছিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহাও। ২১ জুলাই শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে মদন মিত্র ঋতব্রত শিবিরে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই, মদন মিত্র বলেন, তিনি তৃণমূলেই ছিলেন, তৃণমূলেই রইলেন। কেবল বদল করলেন শিবির। এর আগেও, গত কয়েকদিনে একে একে মমতার সঙ্গীরা হাত ছেড়েছেন। এর আগে, তালিকায় শেষ নাম ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তারপরেই এবার তালিকায় মদন মিত্র।
















