আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড় অভিযোগ করছিলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। একটি ফেসবুক পোস্টে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কয়েকজনের বিরুদ্ধে কলেজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগের স্বপক্ষে একটি ব্যাঙ্কের পাসবুকের ছবিও পোস্ট করেছিলেন। সজলের অভিযোগ ছিল, তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি আবেদন করেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার। 


এরপরই মঙ্গলবার লালবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিকেলের দিকে তারা খরব পান সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কর্মীরা সুরেন্দ্রনাথ ডে কলেজ ও সুরেন্দ্রনাথ ইভনিং কলেজের অধ্যক্ষদের উপস্থিতিতে কলেজের পিছনের দিকের একটি গুদামঘর পরিষ্কার করছিলেন। সেই সময় সেখানে রাখা দুটি সুটকেসের মধ্যে ময়লা অবস্থায় থাকা প্রচুর ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।


বিষয়টি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ‘এজীবনে আর কী দেখতে হবে। তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারিতে লাখ লাখ টাকা সরিয়ে রেখেছে। সেই টাকা উইতে খেয়েছে। কত টাকা থাকলে পরে টাকা উইতে খায়। এই সমস্ত টাকা জনতা টাকা, গরিবের টাকা। এই টাকার বিনিময়ে ভর্তি বিক্রি করা হয়েছে। এদের পুলিশ কিছুই করেনি। এদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ কিছুই করেনি। এদেরকে গ্রেপ্তার করা হোক।’ 


প্রসঙ্গত, আগেও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন নিয়ে সরব হয়েছিলেন সজল ঘোষ। সেই সময় নিজের ফেসবুক পোস্টে সজল লিখেছিলেন, “সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের শুধু ফাংশনের নামে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে আমার আবেদন, অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতির তদন্ত হোক, এবং আমরা সবাই জানি এই দুর্নীতির মাথা কারা, প্রমাণ-সহ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হোক।

 


প্রসঙ্গত, বরানগর বিধানসভার বিধায়ক হলেও, সজল চৌরঙ্গি বিধানসভার বাসিন্দা। সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দূর্গাপুজোর প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। এই বিধানসভায় জয় পেয়েছেন তৃণমূলের নয়না ব্যানার্জি। সেই চৌরঙ্গি বিধানসভাতেই রয়েছে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। এবার কলেজের ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সজল। কলেজের ছাত্র সংসদের ক্ষমতা গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হাতেই রয়েছে।