আজকাল ওয়েবডেস্ক: একজন বলছেন, মদন মিত্র শিবির বদলছেন শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গেই। ঠিক কয়েক মিনিটে পালটা দিতে গিয়ে, মদন কুণাল ঘোষের 'মন'নিয়ে টানাটানি করছেন একপ্রকার। সঙ্গে বাড়ালেন জল্পনাও। 

শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে, মদন মিত্রের পাশে দাঁড়িয়েই বলেন, 'শারীরিক ভাবে ওদিকে গেছেন, কিন্তু মন পড়ে আছে এদিকে। কাপুরুষের মতো ইডি দিয়ে বৌদি-ছেলেকে নোটিস দিয়েছে। আমরা চাই মদনদা ভাল থাকুক, দু'চারদিন যা মন চায় প্রাণ চায় করুক। আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।' পাশে তখন দাঁড়িয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান ব্যানার্জি, অশোক দেব। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর থেকে বেরিয়েই কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক, দীর্ঘদিনের কর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হন। সেখানেই হাসি-মজায় উঠে আসে এই মন্তব্য। মদনকেও বলতে শোনা যায়, 'আগামী দশ বছর শোভনদা বিরোধী আসনেই বসবেন...।' 

যদিও মদন এই সাক্ষাৎকে স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। বলছেন, এতে তাঁর সিদ্ধান্তের, অবস্থানের বদল হবে না। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরেও বলেন, নৈতিকতা থেকে তিনি সরবেন না। কুণালের মন্তব্যে জল্পনা ছড়াতেই, আবার পালটা জবাব দিয়েছেন মদন মিত্রও। বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, 'আলো-বাতাস-পাখি-ফুলের বাইরে সবথেকে বেশি গান হয়েছে মন নিয়ে। আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব, হারিয়ে যাব আমি তোমার সাথে। কুণাল ঠিক আমার সঙ্গে হারাতে চাইছে নাকি অন্য কিছু করতে চাইছে বুঝতে পারিনি। তবে আমার মনে হচ্ছে, কুণালের হারাবার দিনটা খুব তাড়াতাড়ি, এটা আমার মনে হল।'

কুণালের 'স্ত্রী-পুত্র' মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন মদন। বলছেন, 'স্ত্রী-পুত্রর কথা ভেবে, স্ত্রী-পুত্র চলে যাবে, আমি কেন চলে যাব।' অন্যদিকে 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর ছন্নছাড়া দশার কথাও তুলে ধরেন মদন মিত্র।

মদন প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মদন মমতার হাত ধরতেই, কালীঘাট তৃণমূল বলছে, তদন্তকারী সংস্থার কারণেই শিবির বদলে। কালীঘাট তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আজকাল ডট ইন-কে মদনের শিবির বদলের দিনেই জানান, 'মদনের স্ত্রী-ছেলের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এসব গণতান্ত্রিক দেশে ঘটে না। মদন আমাদের সহকর্মী। পরশু দিন রাত্রেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এসব কোনও গণতান্ত্রিক দেশে হয় না। এটা দুর্ভাগ্যের বিষয়।'