আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিতর্ক শুধু মতের আদান-প্রদান নয়, বরং চিন্তা ও যুক্তির উৎসব। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হল কলকাতা অক্সফোর্ড ডিবেটিং সার্কিটের তৃতীয় অনলাইন ডিবেট প্রতিযোগিতা ‘প্রারম্ভ এডিশন ৩’।
নতুন প্রজন্মের বক্তা, চিন্তক ও নাগরিকদের জন্য তৈরি এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন ১৫০-রও বেশি প্রতিযোগী। ২০২৫ সালে দেবাঙ্গনা বসুর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল কলকাতা অক্সফোর্ড ডিবেটিং সার্কিটের পথচলা।
অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিতর্ক, যুক্তি ও মত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সারাহ কামার।
‘প্রারম্ভ এডিশন ৩’-এ অংশগ্রহণকারীরা এসেছিলেন কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। তাছাড়াও মুম্বই, গুজরাট ও বেঙ্গালুরুর মতো শহর থেকেও প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
নবম শ্রেণির পড়ুয়া থেকে শুরু করে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতা হয়ে উঠেছিল বৈচিত্র্যময়। প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং ২০২২ সালের ভারতের শীর্ষ ৩০ তরুণ অর্থনীতিবিদের অন্যতম ড. সৌভিক মুখার্জি, ইন্ডিয়া টুডের জেনারেল ম্যানেজার (ইস্ট) অনিন্দ্য সুন্দর কুণ্ডু এবং ভিশন থ্রি গ্লোবালের পাবলিক রিলেশনস এক্সিকিউটিভ সোনালিকা গোস্বামী।

এবারের প্রতিযোগিতায় হাউস প্রপোজিশনের সেরা বক্তার সম্মান পান পথিকৃত মৈত্র। অন্যদিকে, হাউস অপোজিশনের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন শৈবায়ন গাঙ্গুলি। এছাড়াও অনীতেজ মুখোপাধ্যায়, উপাসনা দাস, আয়ুষ চট্টোপাধ্যায় এবং অদ্বৈতা রেবেকা সেনগুপ্ত নিজ নিজ বিভাগে নজর কেড়েছেন।
আয়োজকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ। বিতর্কের মাধ্যমে শুধু বক্তব্য রাখার দক্ষতাই নয়, বরং প্রশ্ন করা, গবেষণা করা, ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষাও পাওয়া যায়।
নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘প্রারম্ভ’ বরাবর কাজ করে আসছে। এবারের সংস্করণে প্রিলিমিনারি পর্বে চালু করা হয়েছিল বিশেষ ভার্নাকুলার রুম। এর মাধ্যমে বাংলা ও হিন্দি ভাষাভাষী প্রতিযোগীরা নিজেদের ভাষায় বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
কলকাতা অক্সফোর্ড ডিবেটিং সার্কিটের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিভা সর্বত্র থাকলেও সুযোগ সব জায়গায় পৌঁছায় না। তাই আগামী দিনে আরও বেশি নতুন, অচেনা ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিভাকে এই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ‘প্রারম্ভ এডিশন ৩’ সেই লক্ষ্যপূরণের পথেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।















