আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেশায় পুলকার চালক। বয়স ৫৫। সম্বল বলতে সেকেন্ডহ্যান্ড মারুতি ইকো গাড়ি ও একটি টোটো। রোজগার সামান্য হলেও মনের জোর নিয়ে মানুষের পাশে থাকেন পার্থ করচৌধুরি। তাঁর সেকেন্ডহ্যান্ড মারুতিটি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার তিনটি হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের বিনা পয়সায় খাবার বিলি করছেন কালীঘাটের মহামায়া লেনের এই বাসিন্দা। রোগীর আত্মীয়রা তাঁকে ভালবেসে ডাকেন ‘‌হসপিটালম্যান’‌। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এই কাজ করে চলেছেন তিনি। পার্থর এই কাজ দেখে এস পি মুখার্জি রোডের বাসিন্দা তুরিন মুখার্জি তাঁকে একটি আধুনিক ‘‌ফুড ভ্যান’ দিয়ে পাশে দাঁড়ান। উদ্দেশ্য, আরও বেশি মানুষ যেন বিন্যামূল্যে খাবার পান। এমনকী হোটেল, রোস্তোরাঁয় খাবার জোগাড় করতে না পারলে ফুড ভ্যানে খাবার তৈরি করে দেবেন ‌হসপিটালম্যান পার্থ।

প্রতিদিন সকাল ও রাতে ফুড ভ্যানে খাবার নিয়ে হাসপাতালের সামনে পৌঁছে যাই। এখন দক্ষিণ কলকাতায় ঘুরবে এই ফুড ভ্যান। চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হসপিটালে যাই। মাঝে মাঝে এসএসকেএম–ও খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। সময় সকাল সাড়ে ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত এবং রাত সাড়ে ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত। জানালেন পার্থ করচৌধুরি। তিনি জানালেন, ‘‌মানুষকে খাবার দিতে গিয়ে ফুরিয়ে যেত। অনেকে চাইলে দিতে পারতাম না। আমার বহু দিনের স্বপ্ন ছিল আমাদের একটা ‘‌ফুড ভ্যান’‌ থাকবে। খাবার শেষ হলে আবার তৈরি করে দিতে পারব। অবশেষে সম্ভব হল তুনির মুখার্জি পাশে দাঁড়াতে।’‌ কোভিডের সময় চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের সামনে তুরিন মুখার্জির বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে প্রত্যেক দিন রোগীর পরিবারদের খাবার দিতেন পার্থবাবু।

ওনারা নিয়মিত এই কাজ দেখে তুরিনবাবু এগিয়ে আসেন। তুরিন মুখার্জি জানান, ‘‌আমার বাবা দীর্ঘদিন নানা সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর পার্থদাকে নিয়মিত চোখের সামনে দেখলাম নিজের উদ্যোগে কীভাবে মানুষের সেবা করছেন। আমি অনুপ্রাণইত হয়ে ঠিক করলাম, পার্থদার সঙ্গে সেবার কাজ করব।’‌ খাবার জোগাড় করতে না পারলে ফুড ভ্যানে খাবার তৈরি করে দিতে পারব। এখন আর কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। এবার আমরা ভ্যানে চাল, ডাল, কাঁচা সবজি, ডিম জোগাড় করে রাখব। নিজেরাই রান্না করে বিন্যামূল্যে দিতে পারব। সকলে সহযোগিতা করলে আগামী দিনে কলকাতার অন্যান্য জায়গায় এই ফুড ভ্যান নিয়ে যাব। জানালেন পার্থ করচৌধুরি।