আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেশ তথা রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলে যখন বারবার অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল হোস্টেল।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ। এরই মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশে জোরপূর্বক দখলদারি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে একাধিকবার। ক্যাম্পাসের এই চেনা রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যেই এক পশলা টাটকা বাতাসের মতো ধরা দিল কারমাইকেল হোস্টেলের এই উদ্যোগ। গত ১৭ই মে সাধারণ আবাসিক ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হোস্টেলে অনুষ্ঠিত হল বিকল্প হোস্টেল পরিচালন কমিটির নির্বাচন।

কারমাইকেল হোস্টেলের এই নির্বাচনকে ঘিরে আবাসিকদের মধ্যে তুমুল উদ্দীপনা ও উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কোনো রকম রাজনৈতিক চাপ বা বহিরাগত হস্তক্ষেপ ছাড়াই, শতাধিক আবাসিক অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।

মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে টানটান উত্তেজনার ভোট গণনা। গণনা শেষে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজয়ী প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির প্রতিনিধিরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে ওমর আলি, সাধারণ সম্পাদক পদে সাফওয়ান হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে জাইদুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে হামিদ।

দীর্ঘদিন পর হোস্টেলের আবাসিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার একটা দারুণ সুযোগ পেয়ে উচ্ছসিত কারমাইকেল হোস্টেলের আবাসিক মাসুম মিঞা বলেন,'' সাধারণ ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আজকের ছাত্রসমাজ এখনও গণতান্ত্রিক চর্চাকে কতটা গুরুত্ব দেয়। আমরা আশা করি, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা আবাসিকদের স্বার্থ রক্ষা করা, হোস্টেলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।"

রাজ্যের ছাত্র রাজনীতি যখন একপ্রকার স্থবির ও একতরফা দখলের অভিযোগে জর্জরিত, তখন কারমাইকেল হোস্টেলের সাধারণ ছাত্রদের এই নিজস্ব উদ্যোগ আগামী দিনে অন্যান্য ক্যাম্পাসের সাধারণ পড়ুয়াদেরও নতুন করে পথ দেখাবে বলে মনে করছে শিক্ষামহল।