আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাটা ক্যাপিটালের নাম ভাঙিয়ে কম সুদে লোন দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক বিরাট চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। মাত্র ২৫ হাজার ৫০০ টাকা খোয়ানো এক মহিলার অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হদিস পেল শহরের বুকে চলা দুটি ভুয়ো কল সেন্টারের। পোর্ট ডিভিশনের সাইবার সেল ও মেটিয়াবুরুজ থানার যৌথ উদ্যোগে গত ৯ জুলাই বউবাজার এলাকার দুটি গোপন ডেরায় অতর্কিতে অভিযান চালানো হয়। মালাঙ্গা লেন এবং বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের এই দুটি ভুয়ো কল সেন্টার থেকে হাতেনাতে ৯ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ধৃতদের জেরা করে পাটুলি এলাকা থেকে এই চক্রের আরও এক সহযোগীকে জালে তোলা হয়। সব মিলিয়ে এই কোটি টাকার লোন জালিয়াতি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩ জন মহিলাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, ধৃতরা হলো হাওড়ার রানা বর্মন ও দীপ রায় চৌধুরী, নদীয়ার অংশুমান দে ও রাজু দত্ত, কলকাতার প্রশান্ত হাজরা, সুধীর মাহাতো এবং নিমতার রণি মণ্ডল। লোন দেওয়ার নাম করে টোপ ফেলতে তারা যে শুধু পুরুষদেরই কাজে লাগিয়েছিল তা নয়, এই চক্রে পিঙ্কি সাহা, সঞ্চিতা মণ্ডল ও অঙ্কিতা সাহার মতো তরুণীদেরও লোন এজেন্ট সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ধৃতদের কাছ থেকে ৪৮টি কিপ্যাড মোবাইল, ল্যাপটপ, একাধিক সিম কার্ড, জালিয়াতির স্ক্রিপ্ট এবং টাটা ক্যাপিটালের নামে তৈরি ভুয়ো রাবার স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। প্রতারণার জাল এতটাই নিখুঁত ছিল যে, জাল নথিপত্র ও ডিমান্ড ড্রাফট দেখিয়ে তারা সহজেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। তারপর লোন প্রসেসিং ফি, ইনস্যুরেন্স ও ডকুমেন্টেশনের নাম করে দফায় দফায় টাকা চাইত। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, একজন গ্রাহকের কাছ থেকেই আলাদা আলাদা অজুহাতে ২০ বার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে মেটিয়াবুরুজ ও বউবাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুনাল আগারওয়াল জানিয়েছেন, সাইবার সেলের টেকনিক্যাল টিমের সাহায্যে নিখুঁত লোকেশন ট্র্যাক করে এই সাফল্য মিলেছে। তবে জালিয়াতির জাল যে আরও গভীরে ছড়ানো, তা স্পষ্ট। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো রাজ্যের বড়সড় যোগসূত্র রয়েছে কিনা এবং দলের বাকি পান্ডারা কোথায় লুকিয়ে আছে, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।















