আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করা হয়েছিল জয় কামদারকে। কয়েকদিন আগে এই ব্যবসায়ী বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। রবিবার বাড়ি থেকেই বিপুল পরিমাণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এক একাধিক অসংগতি পায় ইডি। পাশাপাশি কিছু নোটে গরমিল পায় তাই তাকে আটক করা হয়েছে। আটক করার পর তাকে সিজও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জয় কামদারের বাড়িতে গত দুদিন তল্লাশি ও অভিযানে যে সমস্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। সেই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অসঙ্গতি মেলে। জোর করে জমি দখল এবং সেই জমি জালিয়াতি করা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তবে তিনি উত্তর দিতে পারেনি। একাধিক প্রভাবশালীর কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়া হয়েছিল বলে দাবি ইডির। সেই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কোনও রকম উত্তর দিতে পারেননি বলেই খবর। ফলে অসহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
রবিবার ভোরবেলায় তল্লাশি অভিযানে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা বর্তমান ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা দিল ইডির দল। ‘সোনা পাপ্পু’ জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার তদন্তে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগেও তল্লাশি চালিয়ে ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই আইপিএস গৌরব লালকে তলব করে ইডি। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালেই ইডির একটি দল পৌঁছে যায় বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও চলে তল্লাশি অভিযান।
প্রসঙ্গত, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে এর আগেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। তবে তিনি সেই সময় হাজিরা এড়িয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
ব্যবসায়ী জয় কামদারের বেহালার বাড়িতেও ইডির আধিকারিক সকালে পৌঁছায়। এর আগে বেহালার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি করে ইডি সেই সময় বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর অফিস থেকে একাধিক নথি উদ্ধার হয়েছিল। এই সমস্ত নথি থেকেই কর্তা গৌরব লাল এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছিল।
অন্যদিকে প্রোমোটিং ও ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় শহরের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিতে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত শুক্রবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাটোপে চলে এই জোড়া অভিযান।
দক্ষিণ কলকাতায় দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছন আয়কর আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, অমিত গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যবসায়ীর সূত্র ধরেই বিধায়কের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধভাবে জমি দখল করে পুরসভার ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে তা কেনাবেচা করা হতো। যেহেতু দেবাশিস কুমার পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাই এই নথি তৈরিতে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না বা এর বিনিময়ে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, এর আগে ইডি তাঁকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এবার হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ পেতে আসরে নেমেছে আয়কর দপ্তর। পাশাপাশি, আনোয়ার শাহ রোডের পিআই বিল্ডিংয়ে তৃণমূল কর্মী শেখ রিয়াজের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় তারা।















