বিউ সরকার: বাংলার অর্থনীতি, বীরভূমে বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা—একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে পূর্বতন  সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন সংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রবিবার নিজের বাড়িতে স্বগণনার প্রক্রিয়া সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। 

 

সম্প্রতি বীরভূমে নাজিমুদ্দিন ওরফে টুলুর সঙ্গে যুক্তদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধারের প্রসঙ্গে এদিন সুকান্ত বলেন, "এতদিন ধারণা ছিল বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু এই ঘটনায় সামনে এসেছে, একজন এজেন্টের কাছ থেকেই বিপুল অর্থ উদ্ধার হয়েছে।" তাঁর দাবি, এই অর্থের একটি অংশ বিদেশেও পাচার হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ, যে অর্থ সরকারের কাছে রাজস্ব হিসেবে আসার কথা ছিল, তা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।


টুলু মণ্ডল সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা দাবি করেন, তদন্তে তাঁর এবং তাঁর সহযোগীদের বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্যের তথ্য উঠে আসছে। তিনি বলেন, "টুলু হোক বা অন্য কেউ আইন আইনের কাজ করবে। কেউ বিদেশে পালিয়ে গেলেও একদিন দেশে ফিরতেই হবে।"


জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেস তথা পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। সুকান্ত মজুমদার বলেন, "বহু সংগঠন গোপনে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।" বিভিন্ন উগ্রপন্থী কার্যকলাপ এবং দেশের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে সব পক্ষের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। যত বড় নেটওয়ার্কই থাকুক না কেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি এবং বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযানে নেমেছে।" হামিমের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলবে বলেও দাবি করেন তিনি।


তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি-র মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ওটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য। উনি হিন্দুত্ব বা হিন্দুত্ববাদ বোঝেন না। হিন্দুত্ব কখনও কট্টর হতে পারে না। প্রয়োজন হলে আমি ওনাকে এক ঘণ্টার ক্লাস নিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে পারি।”


মৌলবাদ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, অতীতে রাজ্য সরকার মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে আপসের নীতি নিয়েছে। তাঁর দাবি, সিপিআইএমের সরকার এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার একই নীতি অনুসরণ করেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের বিষয়ে কোনও আপস করবে না বলেও দাবি করেন তিনি।