আজকাল ওয়েবডেস্ক: শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগের অভিযোগে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শনিবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। হামিমের বান্ধবী অর্পিতার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অর্পিতা হানিট্র্যাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রভাবশালীদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে হানি ট্র্যাপে ফেলে তাঁকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের মতলব করেছিলেন অর্পিতা।

এই তথ্য সামনে আসতেই এবার হামিমের বান্ধবীকে নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিজেপির বিধায়কের বক্তব্য, ‘শুধু বন্ধুবান্ধব নয়, অনেক লোক আছে যাদের মাধ্যমে এই টাকাগুলো তারা ব্যবহার করত।’

তিনি বললেন, ‘অনেক ইতিহাস আছে। আমরা জানতাম। আমাদের বলারও ছিল। কিন্তু কেউ শোনার ছিল না।’ রাজ্য প্রশাসনের ওপর ভরসা রেখে দিলীপের দাবি, এখন সরকার এসেছে, আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা হবে।

হামিম মণ্ডল এবং অর্পিতা সরকারকে মুখোমুখি বসিও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এমনটাই সূত্রের খবর। তথ্য, অর্পিতা সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা হত "আবিদ জাট333" এবং হামাদ নামে দুটি এক্স হ্যান্ডলের।

শনিবারই এসটিএফ আইজি জানান পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে অর্পিতার সরাসরি যোগ রয়েছে। সূত্রের খবর এই দুটি হ্যান্ডলের সঙ্গে অর্পিতা টানা কথা বলতেন, মূলত হানিট্র্যাপে ফেলা নিয়েই বিভিন্ন ধরনের চ্যাট পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দিল্লির যন্তর-মন্তরের ধর্না শেষ হওয়ার ফলে বিপাকে পড়ে হামিম ও শাহজাদ ভাটি গ্যাং। যেদিন ধর্না শেষ হয় তার কদিন আগেই পুলিশের উর্দি জোগাড় করে দিল্লিতে যাবার প্ল্যান করে হামিম কিন্তু উর্দি জোগাড় করার আগেই ধর্না শেষ হয়ে যায়।

ফলে পাক হ্যান্ডলাররা হামিমকে তার অতি সক্রিয়তা কিছুটা কমাতে নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, হামিম মণ্ডলকে জেরা করার সময়ই অর্পিতার নাম সামনে আসে। এরপর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও তথ্য যাচাই করে সাহেবগঞ্জে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।