আজকাল ওয়েবডেস্ক: যে বয়স নতুন কিছু গড়ার, নতুন স্বপ্ন দেখার এবং নিজের ভবিষ্যৎ সাজানোর—সেই বয়সেই তরুণ প্রজন্মকে নেশার মারাত্মক অন্ধকার থেকে দূরে রাখার বার্তা দিল নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (NSEC)। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ (Nasha Mukt Bharat Abhiyaan–NMBA) কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে, "নেশামুক্ত যুবা, বিকশিত ভারত" এই আহ্বানকে সামনে রেখে কলেজে পালিত হলো এক বিশেষ সচেতনতামূলক আয়োজন।
একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী তরুণ প্রজন্মই যে কোনো উন্নত দেশের আসল শক্তি, এই মূল ভাবনাকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে একজোটে সামিল হন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মী সংগঠন। গোটা আয়োজনের মূল স্লোগান ছিল—“নেশাকে না বলুন, জীবন ও স্বপ্নকে হ্যাঁ বলুন।”
মাদকাশক্তি কেবল যে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে তা নয়; এটি ব্যক্তির কর্মজীবন, পরিবার এবং সামাজিক মেলবন্ধনকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। সেমিনারে বক্তারা তুলে ধরেন যে, এই সামাজিক ব্যাধি থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, সচেতনতা এবং একটি ইতিবাচক পড়াশোনার পরিবেশ। কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে কীভাবে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে অনুপ্রাণিত করা হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল ক্লাসরুমে পাঠদান বা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত, মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য। সেই বার্তা স্পষ্ট করেই NSEC ক্যাম্পাসকে সর্বদা একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, ইতিবাচক ও নেশামুক্ত শিক্ষাঙ্গন হিসেবে বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজের সেরাটা দিতে পারে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে—সেটাই উদ্দেশ্য। এই অভিযানে কলেজের অংশ গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এক সুস্থ সমাজ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দৃপ্ত সামাজিক অঙ্গীকার। কারণ, নেশামুক্ত তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই আগামী দিনে গড়ে উঠবে শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও বিকশিত ভারত।
















