আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কলকাতায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল জঙ্গি হুমকিকে ঘিরে। শহরের দুই চিকিৎসকের কাছে নিজেদের পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন দুই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।

শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত। পুলিশের তরফে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাইপাস সংলগ্ন কর্মস্থলে এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে একটি টাইপ করা হুমকি চিঠি পৌঁছায়।

সেই চিঠিতে প্রেরক নিজেকে একটি জঙ্গি সংগঠনের ‘স্পেশাল ইউনিট’-এর সদস্য বলে দাবি করে। নিজেদের ‘কিলিং মেশিন’ বলে উল্লেখ করে তারা জানায়, গেরিলা যুদ্ধ এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে তারা দক্ষ।

চিঠিতে ওই চিকিৎসকের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট সময়ে সায়েন্স সিটির কাছে একটি কালো ব্যাগে টাকা রেখে আসতে হবে।

পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, পুলিশে খবর দিলে বা অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করলে চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলা হবে।

অন্য এক চিকিৎসকও একই ধরনের হুমকি চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর কাছেও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে এবং দাবি না মানলে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোটের আবহের মধ্যেই বিশেষ করে যখন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতায় রয়েছেন সেই আবহে এই ধরনের ঘটনায় শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেন চিকিৎসকদের টার্গেট করা হয়েছে, এর পিছনে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে কি না, নাকি বড় কোনও অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম সোমা দাস মিত্র জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে ইতিমধ্যেই। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

খুব শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পুলিশের তদন্ত পুরোদমে চললেও এই ঘটনায় আতঙ্কে চিকিৎসক মহল। উদ্বেগ বাড়ছে শহরজুড়েও।