আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়িতে নোটিশ দিল সিআইডি ও কালীঘাট থানার পুলিশ। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে খবর।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিশ দিতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে সেই সময় কল্যাণ ব্যানার্জি বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। এরপর তাঁর বাড়ির কর্মচারীর হাতে নোটিশ তুলে দেওয়া হয়।
সিআইডি সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে জানানো হয়েছে, বিধানসভায় সই জাল সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি কবে সময় দিতে পারবেন, তা দ্রুত সিআইডিকে জানাতে হবে।
সেই অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সিআইডি দপ্তরে হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ‘অভিষেক না আমি’—এমন বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বক্তব্যে দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর।
কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, “অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের সব ভুল ক্ষমা করাই বাবার কাজ।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানের এই নাটকীয় পরিবর্তন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণ ব্যানার্জি অভিষেককে ‘অহংকারী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, “অভিষেকের জন্যই আজ দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই এই কথাই বলছেন।”
শুধু তাই নয়, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি মমতা ব্যানার্জি তাঁর বদলে অভিষেককে সমর্থন করেন, তাহলে তিনি অন্য সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। সেই মন্তব্যে তৃণমূলে বড় ধরনের বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে এরপরের বক্তব্যে সেই সংঘাতের সুর অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে। যদিও কল্যাণ ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র আজ চরম সংকটের মুখে।
তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এমন পরিস্থিতি রাজ্যে আগে কখনও দেখা যায়নি।















