আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপ, ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আগেই। ঘটনায় গ্রেপ্তার ইতিমধ্যে চার। মঙ্গলবার রাতে, বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে মৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে কথা না শোনায় বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়।

এই ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাম নেতা, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সংবাদমাধ্যমে, প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, 'এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হল, উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্ত তথ্য লোপাট করা। সত্য যেন সামনে না আসে।' বিকাশের যুক্তি, 'এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝোঁক। একজন অপরাধী, অপরাধ কেন করেছেন, তার প্রেক্ষিত কী, কারা কারা তাঁকে মদত দিয়েছেন, কী উদ্দেশ্য ছিল, এই সমস্ত তথ্য  বের করেই তারমধ্য দিয়েই অপরাধ দমনের প্রকৃত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।'  

শুধু এটুকুই নয়, সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আরও বিস্ফোরক বিকাশ। বারুইপুর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, 'গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই এনকাউন্টার এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, তথ্য লোপাটের জন্য।' 

 

১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর নৃশংস খুনের এই ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ফুঁসছিল গোটা এলাকা। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথম গ্রেপ্তার করে প্রভাস মণ্ডলকে। কিন্তু পুলিশের দাবি, জেরায় সে কোনও সহযোগিতা করছিল না এবং ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল। সেই কারণেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের এই এনকাউন্টারের তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।