আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম পর্ব থেকে দেড় দশকের তৃণমূল আমল। বিদ্রোহী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, মমতা ব্যানার্জির আস্থাভাজনদের তালিকায় যে ক'জনকে দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম অরূপ বিশ্বাস। ২০১১-এ রাজ্যপাটে পালা বদলের পর শুরু থেকেই মন্ত্রী টালিগঞ্জের সেই সময়ের বিধায়ক অরূপ। কিন্তু, ক্ষমতার শীর্ষ থেকে মমতা এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বেশির ভাগই 'বিদ্রোহী'। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে কল্কে পাননি নেত্রীর মনোনিত শোভনদেব চ্যাটার্জিও। অন্যদিকে, লোকসভার ২০ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে নাম লেখানোর ঘোষণা করেছেন।
পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। বহু দিন নিরুদ্দেশ থাকার পর হঠাৎ প্রকাশ্যে অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। তখনই তাঁর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি কি এখনও নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই আছেন?
প্রশ্ন শুনেই নীরব অরূপ। এড়িয়ে গিয়েছেন জবাব।
অরূপ বিশ্বাসের এই নীরবতা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
৪ঠা মে-র পর তৃণমূলের অন্দরে নানা সমীকরণ ওলটপালট হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এর আগে কালীঘাটে যখন বৈঠক হয়েছে, তখন অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে নেত্রীর সামনেই তর্কাতর্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
পাশাপাশি আরও জানা যায় যে, অরূপকে যখনই কালীঘাটে ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি যাচ্ছিলেন না। সূত্রের খবর, মেসি কাণ্ডে অরূপের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ দায়ের হয়, তার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও জড়িয়ে গিয়েছে। ফলে দলের অন্দরেও প্রশ্নের মুখে পড়েন অরূপ বিশ্বাস। অভিযোগ ছিল, দলকে অন্ধকারে রেখেছিলেন তিনি।
এরপর কালীঘাটে জল্পনা বাড়তে থাকে। আড়াল থেকে অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে কানাঘুষো শোনা য়ায়। এই নিয়ে অরূপকে জিজ্ঞাস করা হলেও কোনও সদুত্তর পায়নি কালীঘাট। এরপরই 'একদা বিশ্বাসভাজন' অরূপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁকে দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই পদ দেওয়া হয় শুভাশিস চক্রবর্তীকে।
এসবের মধ্য়েই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে চেয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। ১২ জুন, ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দাবি করেছেন অরূপ। চিঠিতে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দলের তহবিল কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা, আর সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। সূ্ত্রের খবর, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জানিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।
প্রশ্ন হল, মমতা ব্য়ানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরকে অস্বস্তি ফেলতেই এই পদক্ষেপ করেছেন নেত্রীর একদা 'বিশ্বাসভাজন' অরূপ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে।















