আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা কেউ পথে, কেউ স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায়। দু'জায়গায় রয়েছেন এমন নেতাও রয়েছেন। প্রায় নিত্যদিন সমানে আসছে দলের নেতাদের বক্তব্য। কেউ দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কেউ বলছেন, বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না কিছুতেই। ঋতব্রত ইস্যু এমনিতেই বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছে। এর মাঝেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। পয়েন্ট ধরে ধরে কুণাল প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক। যেমন তালিকায় রয়েছেন ভোট পরবর্তীকালে জনপ্রতিনিধিদের 'বিবেক' জাগার বিষয়টি, রয়েছে মমতার হাত থেকে দলের প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার জল্পনার প্রসঙ্গও। কুণাল লিখলেন-
'১) একসঙ্গে অনেক জনপ্রতিনিধির 'বিবেক' ভোটের ফলাফলের পর জাগল কেন?
২) দল পুরোটাই খারাপ হলে তাঁরা দলের প্রার্থী হয়েছিলেন কেন?
৩) দল ফের ক্ষমতায় এলে তাঁরাই কি মন্ত্রিত্ব, বড় পদ, হম্বিতম্বির প্রথম সারিতে থাকতেন না?
৪) দলের যখন কঠিন সময় তখন এতদিন নানা প্রশাসনিক, সাংগঠনিক বড় পদে থাকা, নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা লোকগুলি এখন নেত্রী বা কর্মীদের বা দলের পাশে না থেকে শিবিরবদল বা বিশ্রামের কথা বলছেন কোন্ মুখে?
৫) যাঁরা বিপ্লবী সাজছেন, তাঁদের মুরোদ হল না দলের বৈঠকে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খোলাখুলি বিষয়টা বলার? নাকি অন্য অঙ্কে অন্যের তৈরি চিত্রনাট্যে 'ভালো তৃণমূল' সাজার তাগিদ বেশি?
৬) যাঁরা বিধায়ক/সাংসদ হয়েছিলেন দলের প্রতীকে, মমতাদির ছবি লাগিয়ে; ভোট করেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা; মানুষ ভোট দিয়েছিলেন মমতাদিকে সমর্থন করে; এখন 'অন্য অঙ্কে' একা শিবির বদল কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়?
৭) যাঁরা শিবির বদল করছেন, তাঁদের অনেকের মুখে বলা কারণ এবং আড়ালে রাখা কারণের তালিকাটা কত বড়? কেউ কেউ কীসের ভয়ে যাচ্ছেন? মানুষ কিছু বোঝেন না, ভাবেন কী করে?
দলে অভিযোগ, অভিমান অনেকের থাকে। আমারও আছে। কিন্তু কঠিন সময়ে দলের এবং নেত্রীর পাশ থেকে সরে প্রতিপক্ষের হাত শক্তিশালী করা, কতটা ঠিক?
৯) কেউ কেউ বলছেন শুনলাম, দলের স্বীকৃতি, প্রতীক তাঁরা মমতাদির হাত থেকে নিয়ে নেবেন। প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রশক্তির মদতে সংখ্যাতত্ত্বে তা হয়ত সম্ভব। কিন্তু যে মহিলার আজীবন লড়াইতে সবাই প্রতিষ্ঠিত; কত নেতা, মন্ত্রী, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত; আজ নেত্রী বর্ষীয়ান; ভোটের পর এখন সংখ্যায় চাপে; তাঁর হাত থেকে তাঁর তৈরি দল, প্রতীক কাড়ার কথা ভাবতে লজ্জা করছে না? যারা ভাবছে, তাদের হাতে তাদের মা-ও নিরাপদ নন।
১০) মমতাদির সঙ্গে যে কর্মীরা আছেন, থাকবেন; তাঁদের একজন সহযোদ্ধা হয়ে থাকব। দল আমাকে বিধায়ক করেছে একমাস হল। আমি বিশ্বাসঘাতক হতে পারব না। পরাজিতের দিকে থাকব। চক্রান্তে বিদ্ধের দিকে থাকব। দলের ভুলগুলো শোধরাতে বলব, তবু মমতাদির পাশ থেকে এই সময়ে নড়ব না। যারা অনেক কিছু পদ, ক্ষমতা পেয়েও এখন চলে যাচ্ছে, যাক। আমার বিবেক বলছে, এখন মমতাদির সঙ্গেই থাকা উচিত। আমার মা বেঁচে থাকলেও এই নির্দেশ দিতেন। অভিমান পরে। এখন কর্তব্য আগে। এটাই মানুষের পরিচয়।
কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়ে বলি:
জয়লোভে যশলোভে রাজ্যলোভে অয়ি,
বীরের সদগতি হতে ভ্রষ্ট নাহি হই।'