আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পদ্মশিবির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর বেআইনি উচ্ছেদের ঘটনা খবরের শিরোনাম কেড়েছে। সম্প্রতি দমদমের হকার উচ্ছেদের পর মঙ্গলবার রাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাদবপুরে রাতে হকার উচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এলাকায় বুলডোজার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ রুখতেই সেখানে উপস্থিত সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য বাম নেতা-কর্মীরা। রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকাতে দেখা হাজির পুলিশ, জিআরপি এবং আরপিএফও।

 

জানা গিয়েছে, যাদবপুর রেলস্টেশনের বাইরেই পুলিশের পাশাপাশি দেখা গিয়েছে বুলডোজার। বামেদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে চুপিসারে হকার উচ্ছেদ হতে পারে। আর সে জন্যই তাঁরা রাতপাহারা দেবেন। তাঁদের দাবি, সঠিক পুনর্বাসন ছাড়া কোনওভাবেই হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। এর প্রতিরোধ করতেই হবে।

 

সৃজন বলেন, "আমরা সারা রাত জাগব। এলাকা ছেড়ে নড়ছি না। পুলিশ এসেছে। রেলের সঙ্গেও কথা হয়েছে।"

 

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে-তেও রাতের অন্ধকারে দমদম স্টেশনেও চলেছে বুলডোজার। মাঝে রাতে দমদম স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে একের পর এক দোকান, স্টল ভেঙে, গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার। রেলের জমিতে দিনের পর দিন অবৈধ দোকানের দখলদারি আর চলবে না বলে জানিয়েছিল রেল! সপ্তাহান্তে রাতের দিকে ভিড় খানিকটা কমতেই চলে বুলডোজার।

 

জানা গিয়েছে, দমদম স্টেশনে অবৈধ দোকান সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল মালিকদের। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এমনকি ৩০ মে রাতও তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য হতেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়।

 

রাত ১১টা নাগাদ দমদম স্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। খানিকক্ষণেই পৌঁছয় বিরাট পুলিশ বাহিনী, আরপিএফ এবং রেল পুলিশের আধিকারিকরা। প্রথমে মাইকিং করে দোকান ও স্টলগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায়, বুলডোজার অভিযান শুরু হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক স্টল, দোকান, গুমটি। 

 

দমদম এলাকাতেও ঘটনার তিন দিন আগে থেকেই রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাম ও সিটু কর্মীরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দমদম স্টেশনের বাইরেও রাত পাহারা দিয়েছেন। রাত ১২টা নাগাদ উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পাঁচবারের প্রাক্তন সিপিএমের সাংসদ তড়িৎ তোপদার, সিপিএমের নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য , গার্গী চ্যাটার্জী, ময়ূখ বিশ্বাসরা। তাঁদের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু দোকান, স্টলের মালিকরা।

 

শুধু দমদম নয়, এর আগে কখনও বেআইনি নির্মাণের কারণে তপসিয়ায় আবার কখন বেআইনি হকার উচ্ছেদের জন্য হাওড়া, শিয়ালদহ-সহ বুলডোজার। রেলের অভিযোগ, বেআইনি উচ্ছেদ নিয়ে আগেও তৎপরতা দেখিয়েছে রেল। কিন্তু তখন সরকারি সহযোগিতা মেলেনি। এ বার সরকার সহায়তা করায় জলদি রেলের জমি দখলদারি মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।