আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুরুতর আহত রোগীর জন্য হাসপাতালের বেড ও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগকারীর নাম শিবব্রত গুহ। তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন, গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন তাঁর বাবা প্রবীর গুহ (৫৭)। প্রথমে তাঁকে একটি পাঁচতারা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। পরে আর্থিক কারণে ২৮ মে প্রবীর বাবুকে আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। 

পরিবারের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয় এমার্জেন্সিতে। বহু চেষ্টা করেও কোনও বেডের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ট্রমা সেন্টারের সামনে নারু সাহা নামে এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ভেন্টিলেশন বেডের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ১৪ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দামদর করে ১২ হাজার টাকায় রফা হয়।

শিবব্রত গুহের অভিযোগ, ১২০০০ টাকার বিনিময়ে সার্জারি বিল্ডিংয়ের আইসিইউতে একটি বেডের ব্যবস্থা করা হয়। সন্ধ্যা ছটায় বেডে ভর্তি করা হলে, রাত আটটা নাগাদ পূর্বের কথামতো ১২০০০ টাকা নারু সাহাকে দিয়ে দেন। 

চলতি মাসের ২ তারিখে শিবব্রতর বাবাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলে তারপর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই তিনি সোজা যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। আর তারপরেই তিনি লিখিত অভিযোগ জানান পুরো বিষয়টি নিয়ে।

   অভিযোগকারী দাবি করেছেন, রোগীর সঙ্কটজনক অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারী শিবব্রত আমাদের সংবাদপত্রের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "আমাদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ১২০০০ টাকার বিনিময়ে ডেট দিয়েছে এই দালাল। প্রথমে আমি এই ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাই হাসপাতালের এমএসডিপি সপ্তর্ষি চ্যাটার্জিকে। তিনি সমস্ত অভিযোগ লিখিয়ে পুরো বিষয়টি থানাকে জানান। অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। আশা করছি পুলিশ এই বিষয়ে নজর রাখবে এবং আগামীতেও যাতে সাধারণ মানুষ এ ধরনের দালাল চক্রে জড়িয়ে না পড়ে তার জন্য তৎপর থাকবে হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসন।" 

সূত্রের খবর, পুলিশ প্রথমে অভিযুক্ত নাড়ু সাহাকে গ্রেপ্তার করতে গড়িমসি করছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তৎপরতায় অবশেষে আজ দুপুরে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয় দালাল নাড়ু সাহা কে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান অ্যাডিশনাল সিপি কুনাল আগারওয়াল বলেন, "আমি খবর পেয়েছি একজন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর জি কর হাসপাতালে। এমএসভিপি সপ্তর্ষি চ্যাটার্জির অভিযোগের ভিত্তিতে। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবার। তদন্ত চলছে, আরও কারা কারা দালাল রয়েছে তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ, যারা বেআইনি দালাল চক্র চালাচ্ছে। যাতে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা যায় সে বিষয়ে নজর রাখা হয়েছে।"  

 এখন দেখার, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।