আজকাল ওয়েবডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ঘরে বসে কাজ বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক মার্কিন গবেষণা এর অন্ধকার দিকটি প্রকাশ্যে এনেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাড়ি বা অন্য কোনও জায়গা থেকে কাজের জন্য কর্মীদের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব এবং মানসিক বিপর্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনটাই জানা যাচ্ছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে।

 

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদ নাতালিয়া ইমানুয়েল, ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক এমা হ্যারিংটন এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক আমান্ডা প্যালাইস-এর যৌথ পরিচালনায় সম্পন্ন হয়েছে এই গবেষণাটি। গত ৪ জুন বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স'-এ এটি প্রকাশিত হয়।

 

গবেষকরা ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩২২ জন আমেরিকার নাগরিকের ওপর পাঁচটি প্রতিনিধিত্বমূলক সমীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় 'কেসলার (কে-৬_ সাইকোলজিক্যাল ডিস্ট্রেস স্কেল' ব্যবহার করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, যাঁরা ঘরে বসে কাজ করার মতো চাকরিতে যুক্ত মানসিক কষ্টের মাত্রা অন্য সাধারণ কর্মীদের তুলনায় ০.১ শতাংশ বেড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই সংখ্যাটি কম মনে হলেও, সামগ্রিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক।

 

গবেষণায় জানা গিয়েছে, যাঁরা একা বসবাস করেন, তাঁদের উপর এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সারাদিন কোনও সামাজিক যোগাযোগ ছাড়া কাটানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একা থাকা কর্মীদের মানসিক কষ্টের তীব্রতা, পরিবার বা সঙ্গীর সঙ্গে থাকা কর্মীদের তুলনায় দ্বিগুণ। এর ফলে তাঁদের মধ্যে বিষন্নতা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার প্রবণতা এবং অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

গবেষকরা দেখেছেন, কর্মীরা যে কেবল সময় পাচ্ছেন বলেই বেশি চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন, তা নয়। কারণ, শারীরিক অন্যান্য সমস্যার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা সাধারণ ওষুধের ব্যবহার কিন্তু বাড়েনি। শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার কারণেই তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

 

অনেকের ধারণা ছিল, কাজের সময়ে একাকীত্ব তৈরি হলে মানুষ হয়তো কাজের পরে বা ছুটির দিনে বেশি সামাজিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "নিভৃতে কাজ করে মানুষ তখন কাজ শেষ করে সামাজিকতা রক্ষা করেও সেই একাকীত্ব পূরণ করতে পারেনি। ফলে, বাড়ি থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার কারণে মানুষের সম্পূর্ণ একা বাড়িতে সময় কাটানোর সময় বেড়ে যাচ্ছে। "

 

জানা গিয়েছে, গবেষণার সময়কালে সামগ্রিকভাবে মানুষের মানসিক চাপ এমনিতেও বেড়েছিল। তবে গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কারণই হল এই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' ব্যবস্থা।

 

তবে গবেষকরা এই রিপোর্টের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত, এমন কোনও নির্দিষ্ট জনসংখ্যা আছে কিনা যাঁদের জন্য রিমোট ওয়ার্ক মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ইতিবাচক—তা এই গবেষণায় নিশ্চিত করা যায়নি।

দ্বিতীয়ত, এই গবেষণার তথ্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তাই দীর্ঘমেয়াদে কর্মীরা এই ব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন, তা পুরোপুরি ধরা সম্ভব হয়নি। মনে করা হচ্ছে, যাঁরা এখন কাজের বাইরে নতুন সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তুলছেন, যার সুফল হয়তো আগামী দিনে পাওয়া যাবে।