আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনওরকমের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে সেটিকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার একদিন পরই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে তেহরানের তরফে।
একজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি আধিকারিকা সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘এবার যদি কোনও আক্রমণ হয়, সেটা যেরকমই হোক না কেন, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক, যে নামেই ডাকা হোক না কেন, আমরা সেটাকে আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করব। তার জবাব হবে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক হুমকির মোকাবিলায় ইরান তার হাতে থাকা ‘সব ধরনের সক্ষমতা’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন ‘আর্মাডা’ ক্রমশ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সেই পরিস্থিতিতেই এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন আর্মাডা আব্রাহাম লিঙ্কন এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী তিনটি ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহিনী ওই অঞ্চলে এক ডজন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। ইরানের ওই আধিকারিক জানান, দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যদিও সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। তাঁর কথায়, ‘আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশ কোনওরকম সংঘাতের জন্য নয়। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সে কারণেই গোটা ইরানে বর্তমানে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরু থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে ইরান প্রশাসনের এই নীতির জেরে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও, পরে ট্রাম্প সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। তাঁর দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই ৮০০-র বেশি আটক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে তেহরান।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প ডাভোস সফর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর এই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগিয়েছে।
এদিকে, ইরান প্রশাসনের তরফেও কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিলে ‘গোটা বিশ্বে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।’
একইসঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, বাহিনীর ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।’
