আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত কমাতে থাইল্যান্ড এই প্রথম বন্য হাতির উপর গর্ভনিরোধক টিকা প্রয়োগ করা শুরু করেছে। বুধবার সে দেশের এক বন্যপ্রাণী আধিকারিক এই বিষয়টি জানিয়েছেন। এই সপ্তাহের শুরুতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ত্রাত প্রদেশে তিনটি স্ত্রী হাতিকে এই টিকা দেওয়া হয়।
ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন অফিসের পরিচালক সুখি বুনসাংয়ের মতে, পূর্ব থাইল্যান্ডে হাতির জন্মহার প্রতি বছর প্রায় আট শতাংশ হারে বাড়ছে, যা জাতীয় গড় তিন শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। সুখী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা মানুষ ও হাতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে তিনি বলেন, “আমরা যদি এটি চলতে দিই, তবে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও হাতির মধ্যে আরও সংঘাত সৃষ্টি হবে।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশুচিকিৎসক দলগুলি প্রাণীগুলিকে অচেতন না করেই ডার্ট গানের মাধ্যমে দূর থেকে টিকা প্রদান করেছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলিতে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি এবং হাতিগুলি স্বাভাবিক আচরণ করছে। তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি ছয় মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করা হবে।
দু’বছর আগে চিয়াং মাইয়ে সাতটি বন্দী হাতির ওপর এই গর্ভনিরোধক পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। বন আধিকারিকরা এই কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছেন। মে মাসে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে অন্যান্য অঞ্চলের হাতিদের আরও ১৫টি ডোজ দেবেন। এশিয় হাতি, যা থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) দ্বারা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
২০১৫ সালে থাইল্যান্ডের বন্য হাতির সংখ্যা মাত্র ৩০০-এর কিছু বেশি ছিল। গত বছর তা বেড়ে প্রায় ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও কয়েক হাজার হাতি বন্দিদশায় রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মানুষ ও হাতির সংঘাতের ফলে প্রায় ২০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি হাতির প্রাণহানি ঘটেছে।
