আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার ঠিক আগে, ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার পাকিস্তানকে নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইজরায়েল ইসলামাবাদকে বিশ্বাস করে না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনেরও একই দৃষ্টিভঙ্গি। মার্কিন প্রশাসন মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে কেবল 'লজিস্টিক বা আনুষঙ্গিক সহায়তাকারী' হিসেবেই গণ্য করে।

এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজার বলেন, "আমরা পাকিস্তানিদের বিশ্বাস করি না। এবং আমার মনে হয় - আপনারা জানেন - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানিদের ঠিক কতটা বিশ্বাস করে, তা নিয়ে অহেতুক বা অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। এটি কেবলই একটি সহায়তাকারী ভূমিকা, এর বেশি কিছু নয়।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার বলেন, ইজরায়েলের "আশা-ভরসা" যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই রয়েছে এবং তারা "বিশ্বাস করে যে মার্কিনিরা" এই দুই সপ্তাহের সময়টিকে এমনভাবে কাজে লাগাবে যা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।

লেবাননে ইজরায়েলি হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের নিন্দার জবাবে আজার বলেন, "তেল আবিব, ইঅজরায়েলের প্রতিরক্ষার স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন, তা অব্যাহত রাখবে।"

এনডিটিভি-কে দেওয়া পূর্ববর্তী এক সাক্ষাৎকারে আজার বলেছিলেন যে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করুক, এমনটা ইজরায়েল মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যের চোখে দেখবে না। পাশাপাশি, হামাস এবং লস্কর-ই-তৈয়বা-সহ পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

শুক্রবার পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে চলেছে। উভয় পক্ষই চাইছে একটি ঠুনকো  যুদ্ধবিরতিকে সুসংহত করতে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতের বাড়বাড়ন্ত রোধ করতে।

বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমেই ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। এর মূল লক্ষ্য হল উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করা এবং একটি টেকসই শান্তির পথে অগ্রসর হওয়া।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের 'শান্তিপ্রণেতা' ভূমিকা
এদিকে, 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তান নিজেকে একজন 'শান্তিপ্রণেতা' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, প্রকৃতপক্ষে হোয়াইট হাউসই ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে তারা ইরানের সঙ্গে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে।

প্রতিবেদনটি পাকিস্তানের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এতে বলা হয়েছে যে, ইসলামাবাদ কোনও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী ছিল না; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে তারা কেবলই একটি 'সুবিধাজনক মাধ্যম' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এসব কিছু ঘটেছে ঠিক সেই সময়েই, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র' (ইরান)-এর বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি বাড়িয়ে চলেছিলেন এবং দাবি করছিলেন যে- তেহরান নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে "ভিক্ষা চাইছে"। এই ঘটনাক্রম সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল, যাতে তারা ইরানকে লড়াইয়ের পথ ছেড়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে পারে।এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মূল ভূমিকা ছিল তেহরানের কাছে এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য করে তোলা।"

ইরানের পরিস্থিতি
বুধবার ইরান অভিযোগ করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অঞ্চলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বিপন্ন করার এবং দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে ইজরায়েল দায়ী। ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, ইজরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেঙে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালীতে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, উভয়েই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে- লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতাভুক্ত নয়।