আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তাঁর ছেলে ও আইনপ্রণেতা নিকোলাস মাদুরো গেরা জানিয়েছেন বাবা ভালো আছেন এবং মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন। শনিবার শাসক ইউনাইটেড সোশালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার (PSUV) শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় মাদুরো স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা ভালো আছি। আমি একজন লড়াকু যোদ্ধা।” একইসঙ্গে তিনি সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
মাদুরো গেরা বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর বাবা ভেঙে পড়েননি। বরং সরকারের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন। তাঁর কথায়, চাভিসমোর আসল শক্তি এই ঐক্যেই নিহিত। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দেশবাসী ও দলীয় কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার বার্তা দিতে চান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ভোরে কারাকাস ও ভেনেজুয়েলার একাধিক শহরে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এই উচ্চপর্যায়ের অভিযানে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে ফেডারেল আদালতে হাজির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেলসি রদ্রিগেজ দৃঢ় ভাষায় জানিয়েছেন, মাদুরো ও ফ্লোরেসকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। এক জনসভায় তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা নেই। ভেনেজুয়েলার জনগণই ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে এবং সরকার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রদ্রিগেজ আরও বলেন, মাদুরো দম্পতি দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি “এক মিনিটের জন্যও বিশ্রাম নেবেন না।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের অবস্থান আক্রমণাত্মক ও দৃঢ়। একইসঙ্গে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আনেন।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের আটক থাকা, অন্যদিকে দেশে সমর্থকদের ঐক্যের বার্তা সব মিলিয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে।
