আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বুধবার দেশের সামরিক বাহিনী এক আবেগঘন এক রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যর আয়োজন করে। আমেরিকার  সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিহত সেনা সদস্যদের স্মরণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক কবরস্থানে সামরিক অর্কেস্ট্রার সুরের সঙ্গে নিহতদের কফিন বহন করে নিয়ে যান সেনা সদস্যরা। ভেনেজুয়েলার পতাকায় মোড়া কাঠের কফিনগুলোর পেছনে শোকাহত পরিবার ও সহকর্মীরা হেঁটে চলেন।

কবরস্থানের দক্ষিণ অংশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহত সেনাদের পরিবারদের উদ্দেশ্যে  বক্তব্য রাখেন সামরিক কমান্ডার রাফায়েল মুরিলো। তিনি বলেন, “আপনারা তাদের সামরিক জীবনের পথ বেছে নিতে দিয়েছিলেন তার জন্য আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” কফিনগুলো মাটিতে নামানোর সময় রাষ্ট্রীয় গান বাজে, গার্ড অব অনার থেকে গুলি ছোঁড়া হয় এবং সেই মুহূর্তে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এবং শেষ না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা কবরস্থান ঘিরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে রাখেন।

এই প্রক্রিয়া  অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়ে, যখন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ। এর আগের দিন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নিহত সেনাদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর দাবি, শনিবার গভীর রাতে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অন্তত ২৪ জন ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া।

মাদুরো ও ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তোলা হলে দু’জনেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ভেনেজুয়েলার সরকার এই অভিযানের ঘটনাকে সরাসরি “সামরিক আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেন, পুরো অভিযানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০০ জন, যদিও নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক ও কতজন সামরিক সদস্য তা বিস্তারিতভাবে জানাননি।

এই ঘটনার আন্তর্জাতিক মাত্রাও রয়েছে। কিউবা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় কর্মরত তাদের অন্তত ৩২ জন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানে নিহত হয়েছেন। এদিকে ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাব ঘোষণা করেছেন, নিহতদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হবে।

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, “তাদের রক্ত প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার ও শক্তির দাবি করে। আমাদের সার্বভৌম মাটিতে এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে, সে জন্য আমরা অটল থাকব।” এই বক্তব্য দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন করে তলানিতে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক মহলে ঘটনাটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।