আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একহাত নিলেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তাঁর দেশের তেল সম্পদের উপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ দাবি করা এবং সেই আয়ের ব্যবহার কোথায় হবে তা নির্ধারণ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনও তেল সম্পর্কিত সহযোগিতা হলে তা অবশ্যই ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে হতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে সরাসরি সম্প্রচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, উত্তর গোলার্ধের শক্তির প্রতি লোভ আমাদের দেশের সম্পদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মাদক পাচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে যত অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো ছিল কেবল অজুহাত।’
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং আগামী বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
রদ্রিগেজ যখন ওয়াশিংটনের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলের বাজার খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার পক্ষে সওয়াল করেন, তার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে।
ট্রাম্প বলেন, ‘কতদিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তত্ত্বাবধান করবে, তা সময়ই বলবে।’ তিন মাস, ছয় মাস না কি এক বছর এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘আমি বলব, তার থেকেও অনেক বেশি সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে খুব লাভজনকভাবে ব্যবহার করব। আমরা তেল ব্যবহার করব, তেল নেব। এতে তেলের দাম কমবে এবং ভেনেজুয়েলাকে অর্থ সাহায্য করা হবে, যা তাদের ভীষণভাবে প্রয়োজন।’
এর আগে বুধবার ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, তাঁর পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তবে তিনি এটাও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করা অস্বাভাবিক বা অনিয়মিত কিছু নয়। তাঁর কথায়, ভেনেজুয়েলা এমন সম্পর্কে আগ্রহী, যেখানে দু’পক্ষই লাভবান হবে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি দাগ রয়েছে, যা আমাদের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে এটাও মনে রাখা জরুরি যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোনও ব্যতিক্রমী বিষয় নয়। ভেনেজুয়েলার মোট রপ্তানির ৭১ শতাংশ আটটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বাজারে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত।’
