আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলার জবাবে মধ্যরাতে পাল্টা আঘাত হানল আমেরিকা। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অন্তত ৬০টি ছোট স্পিডবোট সহ ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাতের এই হামলার পরিধি এবং ক্ষমতা মাত্র ১০ দিন আগের মার্কিন অভিযানের চেয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ছিল।

আমেরিকার পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরান সরকারিভাবে হামলার বিষয়ে এখনও মুখ না খুললেও, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে একাধিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্দর আব্বাসে হওয়া একটি বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন। হামলার পাশাপাশি ইরানকে দেওয়া ৬০ দিনের একটি বিশেষ লাইসেন্সও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময়ে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে পারত তেহরান।

আমেরিকার এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক। লাইসেন্স বাতিলকে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সরকারের "অবিশ্বাসযোগ্যতা" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। এছাড়া ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই উত্তেজনার মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর ইরাক সফর কাটছাঁট করে দেশে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে কাতার এবং সৌদি আরবও হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিজেদের তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর বিদায়কালীন শোকের মাঝেই আমেরিকার এই স্মরণকালের অন্যতম বড় বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে যুদ্ধের আবহে ঠেলে দিল।